Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha



বৌদ্ধদের উপর হামলার প্রতিবাদে
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ


বক্তব্য রাখছেন একজন ভিক্ষু


বক্তব্য রাখছেন বৌদ্ধিষ্ট এসোসিয়েশনের সম্পাদক নাগাসেন ভান্তে
লন্ডন: কক্সবাজারের রামু ও উকিয়া এবং চট্রগামের পটিয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ বৌদ্ধিষ্ট এসোসিয়েশনসহ অন্যান্য সংগঠনের আহবানে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ সমাবেশে মায়ানমার, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অংশ গ্রহন করে। সমাবেশের বক্তারা বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতি ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ব্রিটিশ সরকার ও জনগনের রয়েছে ঐতিহাসিক ভূমিকা। সেই ভূমিকার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রায়ের বেলায়ও অব্যাহত থাকবে, এমনটিই আশা করে দেশটির বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। বাংলাদেশ বৌদ্ধিষ্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্ঠা নাগাসেন ভান্তে রামু, উকিয়া ও পটিয়ায় বৌদ্ধদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে বাংলাদেশ সরকারকে চাপ প্রয়োগের আহবান জানান ব্রিটিশ সরকারের প্রতি। তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের জনগনের মানবাধিকার রক্ষায় ব্রিটেন সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রাদায়ের বেলায়ও ব্রিটেন একই ভুমিকা পালন করুক, এটিই আশা করে দেশটির বৌদ্ধরা। বাংলাদেশ বৌদ্ধিষ্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুজন বড়ুয়া সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধদের পুনর্বাসনে ব্রিটেনের সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশের জন্যে নির্ধারিত ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন তহবিলের পরিমান বাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বৌদ্ধদের পুনর্বাসনের বিষয়টি এই তহবিলে অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান। এ বিষয়ে তড়িৎ সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে সরকারকে প্রভাবিত করতে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপিদের প্রতিও আহবান জানান। মায়ানমার, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও চীনসহ অন্যান্য দেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বৌদ্ধদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় নিয়ে আসার আহবান জানিয়ে বলা হয়, ধর্মীয় সহবস্থান ছাড়া বিশ্বের কোন দেশেই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। দোষিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা যার যার সরকারের প্রতিও এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে প্রভাবিত করার আহবান জানান। প্রায় দুই ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ অংশগ্রহন করে। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনেক নেতাকর্মীও বৌদ্ধদের বিক্ষোভ সমাবেশে যোগদান করেন। তাদের মতে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর এই হামলা বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য অসাম্প্রদায়িক বাঙালিয়ানাকে কলুষিত করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র। ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীরা এই ষড়যন্ত্রের মূল কলকাটি নাড়ছে। তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধী সমর্থক এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি বিভিন্ন সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্প ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু অসাম্প্রদায়িক চেতনায় পরিশুদ্ধ সাধারণ মানুষের বিরোধীতার মুখে ওই শক্তি তাদের অপকর্মে সফল হতে পারেনি। আজও তাদের সফল হতে দেয়া যায় না। তাদের কেউ কেউ বাংলানিউজকে বলেন, ২০০১ সালে সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনা তদন্তে গঠিত বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী দোষিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসলে রামু ও পটিয়ায় সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা ঘটতো না। তারা অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে চিহ্নিত দোষিদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে সরকারের প্রতি আহবান জানান। তারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্থ করতে চর্তুমূখি যে ষড়যন্ত্র চলছে সেই ষড়যন্ত্রেরই ধারাবাহিকতা বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উপর এই হামলা। রোহিঙ্গা শরনার্থিদের উপর কড়া নজর রাখার আহবান জানিয়ে সরকারের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী শক্তি দেশে অস্থিশীলতা সৃষ্টির লক্ষ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থিদের ব্যবহার করছে।





0 comments:

Post a Comment

Popular Posts