Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

লন্ডনে নুরুল ইসলাম নাহিদ

জনমত জরিপে সফল হলেও সন্তুষ্ট নন শিক্ষামন্ত্রী


সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
লন্ডনে সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন নুরুল ইসলাম নাহিদ।
লন্ডন: মহাজোট সরকারের তিন বছরের শাসনামলে জনমত জরিপে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবচেয়ে সফল মন্ত্রণালয় হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও এতেই সন্তুষ্ট নন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি মনে করেন, এই সফলতা নিয়েই বসে থাকলে চলবে না, সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আরো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

রোববার পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলি ব্যাংকুইটিং হলে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে বক্তৃতাকালে শিক্ষামন্ত্রী তার এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা আব্দুল মতলিবের সভাপতিত্বে এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রীর নিজ নির্বাচনী আসন গোলাপগঞ্জ বিয়ানীবাজার এলাকার প্রবাসীদের উদ্যোগে এই সমাবেশ আয়োজিত হলেও মূলত দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের এক ব্যতিক্রমী মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল সমাবেশটি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক ও বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলামসহ শিক্ষামন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন পরযায়ের নেতারা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

প্রায় দেড় হাজার মানুষের উপস্তিতিতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশের দীর্ঘ এক ঘণ্টার বক্তৃতায় শিক্ষামন্ত্রী তার এলাকার উন্নয়ন ও শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জনমত জরিপের বরাত দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সবচেয়ে সফল মন্ত্রণালয় হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও আমি এতেই সন্তুষ্ট নই।’

তিনি বলেন, ‘এই সফলতার খবরে আমাকে যখন কেউ কেউ অভিনন্দন জানাতে চান, তখনই আমি হিসেব করে দেখি বাংলাদেশে এখনো আমরা শিক্ষার হার ৫০ ভাগের উপরে উন্নীত করতে পারিনি।’

শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, যে শিক্ষা ব্যবস্থায় ভবিষ্যতে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মত এমন একটি জনগোষ্ঠি আমরা তৈরি করতে পারবো, যে জনগোষ্ঠি মননে, মেধায় ও নৈতিক চরিত্রে পরিপূর্ণ হয়ে তথ্য প্রযুক্তির এই জয়জয়কারের দিনে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সামনের সারিতে থাকবে, সেই শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর সংগ্রামই আমাদের চলছে। আমরা এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি, তবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রাম আমাদের অব্যাহত আছে।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, একটি জাতীর সাম্গ্রীক উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষা ক্ষেত্রে সেই জাতি কতটুকু সমৃদ্ধ তার উপর। আমরা সেই সমৃদ্ধতা আনয়নের চেষ্টা করছি মাত্র। এটি একটি কঠিন কাজ, এই কাজে দলমত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

তথ্য প্রযুক্তির এই বিশ্বে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ঠিকে থাকতে শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম খাত আমাদের গার্মেন্টস শিল্পে প্রশিক্ষিত কর্মীর অভাবে আমাদের দেশে এখনোও প্রায় ২০ হাজার বিদেশি কর্মী কাজ করে, অথচ জনসংখ্যার দিক থেকে আমরা পৃথিবীর ৮ম বৃহৎ দেশ।

দেশের প্রথম গার্মেন্টস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা বর্ণণা করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যখন দেখলাম প্রশিক্ষিত লোকবলের অভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত গার্মেন্টস শিল্পে বিদেশি লোক নিয়োগ দিতে হচ্ছে, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নিজেকে তখন ব্যর্থ মনে হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে চলে গিয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বলেছি, আমার একটি দাবি আছে, আপনি না করতে পারবেন না। কি সেই দাবি জানতে চাইলে তাকে বললাম, দেশের একমাত্র গার্মেন্টস পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে চাই। প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে রাজি। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ করে আজ এটি দেশের প্রথম গার্মেন্টস বিশ্ববিদ্যালয়।

শিক্ষা মন্ত্রী বলেন, কিছুদিন আগে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেমন চলছে তাদের পড়াশোনা? উত্তরে তারা জানালো, পরীক্ষা দেওয়ার আগেই তাদের অনেকে চাকরির প্রস্থাব পেয়ে গেছেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিপুল জনগোষ্ঠিকে জনসম্পদে পরিণত করতে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন যে কতটুকু জরুরি শিক্ষামন্ত্রী হয়ে তা আমি হারে হারে টের পাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র সমাজের সমস্যা নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করতে করতেই আমি আজকের অবস্থানে এসেছি। একটি গণমূখী শিক্ষানীতির দাবিতে রাজপথে যে জীবনের কত সময় ব্যয় করেছি, তা হিসেব করেও বের করতে পারবো না।

গত দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেও জাতীকে একটি গণমূখী শিক্ষা নীতি দেয়া সম্ভব হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর সর্বমহলে গ্রহনযোগ্য একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নে যে চেষ্টা আমরা শুরু করেছিলাম তা আজ সফলতার দ্বারপ্রান্থে। এই শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের কাজই এখন চলছে।

ইউনেস্কোর বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী ২০১৫ সালের মধ্যে শিক্ষার্থী হিসেবে ছেলে ও মেয়ের ব্যবধান সমান সমান করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৫ নয়, আমরা এখনই এই ব্যবধান সমান সমানতো করেছিই, উপরন্তু শিক্ষার্থী হিসেবে এখন আমাদের স্কুল পরযায়ে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার হার এখন সন্তোষ জনক উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার এখন কমানোর সংগ্রাম করছি আমরা। কেন বাচ্চারা স্কুলে যেতে চায়না, কেন স্কুলে গেলেও ঝরে পড়ে এর কারন খুজতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নিজের ঘুরে বেড়ানোর অভিজ্ঞতাও বর্ণণা করেন শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তৃতায়।

বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সফলতার কথা উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ যে একটি গরীব দেশ এটি আমাদের বুঝতে হবে। রাতারাতি সবকিছুর পরিবর্তণ সম্ভব নয়, ধীরে ধীরে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সমৃদ্ধ একটি শিক্ষিত জনগোষ্ঠি তৈরী করতে পারলে দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুত ঘুরবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রিয় কোষাঘার পরিপূর্ণ থাকলে সব সমস্যাই দ্রুততার সাথে সমাধান সম্ভব।

আগামী ১৩ জানুয়ারি পরযন্ত্র শিক্ষামন্ত্রী লন্ডন অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০০৭ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৯, ২০১২

0 comments:

Post a comment

Popular Posts