Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

banglanews24.com:::: যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সংবাদ সম্মেলন:: সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের পক্ষে সৈয়দ আশরাফ

লন্ডন: গণতন্ত্র চর্চায় সব শ্রেণীর মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব সিস্টেম একটি কার্যকর পন্থা। কেননা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ থাকলে ছোট ছোট দলের অনেক অভিজ্ঞ নেতাও জাতীয় সংসদে আসার সুযোগ পেতে পারেন। এটা  পার্লামেন্টকে আরও সমৃদ্ধ করবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম লন্ডনে

একথা বলেছেন।  সোমবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলি ব্যাংকুয়েট হলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ ব্যাপারে যুক্তি তুলে ধরে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আনুপাতিক হারে বেশি ভোট পেয়েও আসন সংখ্যা কম থাকায় একটি দল সরকার চালানোর সুযোগ পায় না। অথচ আনুপাতিক হিসেবে ভোট কম পেয়েও বেশি আসন সংখ্যার কারণে অন্য দল ক্ষমতা ভোগ করে।’

গণতন্ত্রের জন্যে এটি কতটুকু সঠিক তা নিয়ে বাংলাদেশেও আলোচনা শুরু হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মূলত দ্বি-দলীয় রাজনীতিই চলছে। যে যাই বলুক- নৌকা ও ধানের শীষ এই দুই ধারায়ই চলছে রাজনীতি। অবশ্য লাঙ্গলও একটি হিসেবের মধ্যে আছে। আর যেসব দল রাজনীতিতে সক্রিয় আছে জনগণের মধ্যে তাদের কোন প্রভাব নেই। আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের সিস্টেম চালু হলে এসব দলের অনেক অভিজ্ঞ নেতাও পার্লামেন্টে আসার সুযোগ পেতে পারেন। নারীদের প্রতিনিধিত্বও বাড়বে।’

সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এর শেকড় এখনও সমাজের সর্বক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়নি। সর্বক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।’

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, হরমুজ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির যে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা বিতর্কিত বা অকার্যকর করার সব দায় দায়িত্ব বিএনপি-জামায়াতকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ আশরাফ।

বিরোধী দলের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী মধ্যবর্তী নির্বাচন হয় দুই কারণে। যদি প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্ট ভেঙ্গে দেওয়ার জন্যে রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন অথবা প্রধানমন্ত্রী যদি পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে যান। এই দুই পরিস্থিতির কোনোটাই এখন বাংলাদেশে নেই। সুতরাং এসব দাবি বালখিল্য ছাড়া আর কিছু নয়।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের দল জনগণের সামনে একটি নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করেই ক্ষমতায় এসেছে। এই মেনিফেস্টো সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যে কতটুকু আগ্রহ তার প্রমাণ মিলেছে গত ফেব্রুয়ারি মাসের বইমেলায়। সেখানে সর্বোচ্চ বিক্রির প্রথম ১০টি বইয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোও রয়েছে।’

সংবিধান সংশোধন নিয়ে সরকার জগাখিচুড়ি পাকিয়ে ফেলছে- বিরোধী দলের এমন অভিযোগের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নিয়ে সংবিধান সংশোধন বিষয়ে কমিটি হয়েছে। কমিটিতে বিএনপি তাদের প্রতিনিধি দেয়নি।’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘প্রতিনিধি দেবে না, পরামর্শও দেবে না, অথচ সমালোচনা করবে, এটি কি রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয়?’

এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যু, মানবাধিকারসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যুগুলোও উঠে আসে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যে।

প্রসঙ্গত, এক ব্যক্তিগত সফরে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বর্তমানে লন্ডন রয়েছেন। আগামী ২ মে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায়ও বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২২৩১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২৬, ২০১১

0 comments:

Post a comment

Popular Posts