Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

Banglanews24.com: লাদেন হত্যায় সান্ত্বনা খুঁজছেন ৯/১১ হামলায় নিহত শাকিলার বাবা





লন্ডন: আল কায়েদার শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেনের হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমান সম্প্রাদায়ে প্রতিক্রিয়া মিশ্র। তবে ৯/১১ হামলায় নিহত বাংলাদেশি তরুণী শাকিলা ইয়াসমীনের বাবা এ ঘটনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
লাদেন হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই তিনি মেয়ে হারানোর সান্ত¡না খুজছেন। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার অধিবাসী শরিফুল আহমেদ চৌধুরী ৯/১১ এ নিউ ইয়র্কের টু ইন টাওয়ার হামলায় তাঁর তরুণী কন্যা শাকিলা ইয়াসমীন ও জামাতা নুরুল হক মিয়াকে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক ধরে কষ্ট বুকে নিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন।  গত সপ্তাহে পাকিস্তানে আমেরিকান সেনাদের হাতে ওসামা বিন লাদেনের নিহত হওয়ার খবরে সে কষ্ট কিছুটা হলেও তার লাঘব হয়েছে।

শনিবার লন্ডনের বাংলা রেডিও স্টেশন বেতার বাংলা’র একটি লাইভ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৯/১১ ভিকটিম শাকিলার বাবা শরিফুল আহমেদ তাঁর প্রতিক্রিয়া জানান।

বেতার বাংলার ‘সংবাদ নিরীক্ষা’ অনুষ্ঠানে  কান্নাজড়িত কন্ঠে শরিফুল বলেন, সিএনএন নিউজে ‘নরঘাতক ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর খবর শোনার সাথে সাথেই আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমার মেয়ে শাকিলা ও মেয়ে জামাই নুরুল হক মিয়ার ছবি। হাসিখুশি সুস্থ দুটো মানুষ সকালে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আমরা আর তাদের দেখিনি। কোনদিন দেখবোও না।

শরিফুল বলেন, মেয়ে ও মেয়ে জামাই’র মরদেহ দেখারও সুযোগ হয়নি আমার। ৯/১১ এর ১ মাস পর ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে জানতে পারি শাকিলা ও নুরুল হক আর পৃথিবীতে নেই। এর আগ পর্যন্ত  ফিরে আসার সম্ভাবনা নেই ভেবেও মনে মনে আশা করতাম হয়তো একদিন তারা ঠিকই ফিরে আসবে। মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের মরদেহও দেখার সুযোগ হয়নি আমাদের। অক্টোবরে ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়ার পর শাকিলা-নুরুলের যে দেহাবশেষ আমাদের দেওয়া হয়, তাই আমরা দাফন করি লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়েলে।

শরিফুল আরও বলেন, ‘ইসলামের নামে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে নরঘাতক লাদেন সারা মুসলিম সম্প্রদায়কেই বিতর্কিত করেছে। আমেরিকান সেনাদের গুলিতে মৃত্যু তাঁর নিজেরই পাপের ফল। ৯/১১ এর ঘটনায় আমরা যারা সন্তান হারিয়েছি তারা হয়তো আর কোনও দিন আমাদের সন্তান ফিরে পাবো না, কিন্তু লাদেনের হত্যাকা-ের খবরে কিছুটা হলেও সান্ত¡না পাচ্ছি এই ভেবে যে, আমার সন্তান হত্যাকারীর শাস্তি তো হয়েছে। ’

শরিফুল বলেন, ‘কোনও নরঘাতকই যেন বিনা শাস্তিতে পার না পায়, এটিই আমাদের কামনা।’

এ প্রসঙ্গে তিনি ৭১ এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধী নরঘাতকদের বিচারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘এদেরও বিচার হওয়া উচিত। পৃথিবীর সব ঘাতক হত্যাকারীই যেন বিচারের আওতায় এসে শাস্তি পায়, সারা পৃথিবীতে যেন শান্তি ফিরে আসে---- লাদেন হত্যায় এটিই আমার প্রতিক্রিয়া।’

মেয়ে ও মেয়ে জামাইয়ের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে তিনি নিজ এলাকা মৌলভীবাজারে ৬ একর জমির উপর গরীব গৃহহীনদের জন্যে ২০টি বাড়ি করে দিয়েছেন বলেও জানান বেতার বাংলা’র ‘সংবাদ নীরিক্ষা’ অনুষ্ঠানে।

নিহত শাকিলা মৃত্যুর মাত্র দেড় বছর আগে নুরুল হক মিয়ার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। স্বামী স্ত্রী দুজনই কাজ করতেন টু ইন টাওয়ারে। ঘটনার সময় তারা দুজনই টাওয়ারের ৯৩ তলায় কর্মরত ছিলেন। প্রথম বিমানটি আঘাত হানে তাদের টাওয়ারেই।
শাকিলা-নুরুল এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের প্রতিবেশী ডায়ানা হান্টের প্রস্তাবে ২০০৫ সালে নিউ ইয়র্কের মেয়র মাইক্যাল ব্লুমবার্গ ৬৭ স্ট্রিটের নামকরণ  করেন ‘শাকিলা ইয়াসমীন ও নুরুল হক মিয়া ৯/১১ মেমোরিয়েল ওয়ে’। ৬৭ স্ট্রিটের পাশাপাশি ব্রুকলিনের এভিংটন স্ট্রিট ও থার্ড এভিনিউও একই নামের অন্তর্ভূক্ত হয়।

উল্লেখ্য, ৯/১১ হামলায় সরকারি হিসেব অনুযায়ী নিহত ২৯৯৬ জনের মধ্যে মোট ১২ জন বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। সারা বিশ্বের মোট ৯০টি দেশের নাগরিক এই হামলায় নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন হামলাকারী বিমান হাইজেকার, ১২৫ জন পেন্টাগন কর্মকর্তা ও ৩৪৩ জন নিউ ইয়র্ক পুলিশও ছিলেন।

শাকিলা ও নুরুল হক মিয়া ছাড়া আরও যেসব বাংলাদেশী ঐ হামলায় নিহত হয়েছিলেন তারা হলেন, মো: সাদেক আলী, সাব্বির আহমদ, মো: শাহজাহান, মো: সালা উদ্দিন চৌধুরী, আবুল কাশেম চৌধুরী, নাবিদ হোসেন, ওসমান গনি ও আশফাক আহমেদ।

পাকিস্তানে লাদেন নিহত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাকা ওবামা নিউ ইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরো টু ইন টাওয়ার স্থল পরিদর্শন করেন। ঐ সময় তিনি ৯/১১ হামলায় নিহতদের স্মরণে গ্রাউন্ড জিরোতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন ও নিহতদের পরিবার সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, যাদের মধ্যে নিহত বাংলাদেশীদের পরিবার সদস্যরাও ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ২০১৫ঘণ্টা, মে ০৮, ২০১১  
Link to Article                 

0 comments:

Post a comment

Popular Posts