Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

বাংলানিউজ২৪.কম::: লন্ডনে পপিফুল পোড়ানোর দায়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবকের জরিমানা

লন্ডন: রণাঙ্গনে নিহত ব্রিটিশ সৈন্যদের স্মরণ করার প্রতীক হিসেবে স্বীকৃত পপি ফুল।  এই পোড়ানোর অপরাধে ব্রিটেনের একটি আদালত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবকের জরিমানা করেছেন।

পপি ফুল পুড়িয়ে রণাঙ্গনে নিহত ব্রিটিশ সৈন্যদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন খোদ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীও।

এর ফলে চরমপন্থা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ব্রিটিশ মিডিয়ায় আবারও উঠে এসেছে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ওই যুবকের নাম।

২৬ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম ইমদাদুর চৌধুরী। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৫০ পাউন্ড জরিমানা করেন।

১ম ও ২য় বিশ্বযুদ্ধসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে নিহত ব্রিটিশ সৈন্যদের স্মরণে প্রতি বছর ১১ নভেম্বর সকাল ১১টায় সারা ব্রিটেনে পালন করা হয় নীরবতা। নভেম্বর মাসব্যাপী সবাই লাল পপি ফুল বুকে ধারণ করে স্মরণ করেন নিহত ব্রিটিশ সৈনিকদের। কেন্দ্রীয় লন্ডনের রয়েল অ্যালবার্ট হলে জাতীয়ভাবে এই কর্মসূচি চলে।

গত বছরের ১১ নভেম্বর এই স্মরণ অনুষ্ঠান চলার সময় বাঙালি যুবক ইমদাদুর চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন মুসলিম চরমপন্থির একটি গ্রুপ আফগানিস্তান ও ইরাকে ব্রিটিশ সেনাদের উপস্থিতির প্রতিবাদে রয়েল অ্যালভার্ট হলের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে ইমদাদুর চৌধুরী তার সহকর্মীদের নিয়ে ক্যামেরার সামনে দুটো প্লাস্টিকের পপি ফুলে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় তারা ব্রিটিশ সেনাবাহিনী নিপাত যাক, ব্রিটিশ সৈন্য খুনি, ব্রিটিশ সৈন্য ধর্ষক ও ব্রিটিশ সৈন্য সন্ত্রাসী বলে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা তাদের এই পপি জ্বালানোকে আফগানিস্তান ও ইরাকে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতির প্রতিবাদ হিসেবে ঘোষণা দেয়।

ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। চলতি সপ্তাহে লন্ডনের উলউইচ ক্রাউন কোর্টে শুনানি শেষে ব্রিটেনের পাবলিক অর্ডার অ্যাক্টের ৫ ধারায় ইমদাদুর চৌধুরীকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক হাওয়ার্ড রিডল তাকে ৫০ পাউন্ড জরিমানা করেন।

ইমদাদুরের সহকর্মী মোহাম্মদ হককে অবশ্য আদালত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় বিচারক হাওয়ার্ড রিডল বলেন, ‘অভিযুক্ত ইমদাদুর পপি ফুল পুড়িয়ে রণাঙ্গনে নিহত ব্রিটিশ সৈন্য ও তাদের স্মরণকারীদের অপমান করেছেন। মত প্রকাশের স্বাধীনতারও একটি সীমানা আছে, এটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।’

পপি ফুল পোড়নোরে অপরাধে দণ্ডিত হওয়ায় ইমদাদুরের পরিবারের প থেকে হতাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মেইলের কাছে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দণ্ডিত ইমদাদুর চৌধুরীর চাচাত ভাই ৫৪ বছর বয়সী আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘ইমদাদুরের এই অপকর্ম শুধু বাঙালি নয়, পুরো এশিয়ান কমিউনিটিকেই কলঙ্কিত করেছে।’

তিনি বলেন, ‘দণ্ডিত ইমদাদুরের বাবা বাংলাদেশের সিলেটের অধিবাসী গৌছ মিয়া একজন সজ্জন ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মানুষ। পপি ফুল পুড়িয়ে যে ব্রিটিশ সৈন্যদের প্রতি তার ছেলে অপমান দেখিয়েছে, সেই বাহিনীতেই তিনি দীর্ঘ ১৪ বছর কাজ করেছেন।’

আজাদ চৌধুরী জানান, চরমপন্থি ছেলে ইমদাদুরের সঙ্গে বাবা গৌছ মিয়ার সম্পর্ক নেই দীর্ঘ দুই বছর ।

উল্লেখ্য, খণ্ডকালীন চাকুরী করা ইমদাদুর প্রতি মাসে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৮শ পাউন্ড করে ভাতা গ্রহণ করছেন।

প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনের কঠোর হুঁশিয়ারি
বুধবার হাউস অব কমন্সে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে পপি ফুল পোড়ানোর কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়।’

অভিযুক্ত ইমদাদুরের মাত্র ৫০ পাউন্ড জরিমানার আদেশ কী যৌক্তিক বলে মনে করেন? কনজারভেটিভ পার্টির এমপি জ্যাক ভেরির এপ্রশ্নের উত্তরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া কঠিন। আমার মনে হয়, মাননীয় এমপি তার এই প্রশ্নের মাধ্যমে এই মামলায় আদালত কার্যক্রম বিষয়ে সাধারণ ব্রিটিশদের মনোভাবটিই বোঝাতে চেয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই বিবৃতিটিই দিতে পারি যে, এই ধরণের আচরণ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য ও একটি পরমতসহিষ্ণু সমাজ এটি কোনোভাবেই সহ্য করবে না।’

বাংলাদেশ সময় : ০৩৪৫ ঘণ্টা, মার্চ ১৪, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts