Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

সরকারের ভূমিকায় শঙ্কিত ব্রিটেনের বাংলাদেশিরা

লন্ডন: ব্রিটেনের টোরি-লিবডেম জোট সরকারের বাজেট কর্তনে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিবাসী বাংলাদেশিরা। সব ক্ষেত্রেই সরকারের কাট কাট অবস্থানের ফলে ব্রিটিশ সমাজ জীবনে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে, তা অন্যান্য কমিউনিটির চেয়ে একটু বেশিই প্রভাব ফেলেছে বাংলাদেশিদের ওপর।

এলাকার বাঙালি এমপি রোশনারা আলী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন- বর্তমান সরকারের বাজেট কর্তনের পরিকল্পনায় সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশি অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস। তার নির্বাচনী এলাকার জনগণের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা নিয়ে এরই মধ্যে তিনি পার্লামেন্ট ও পার্লামেন্টের বাইরে দেনদরবার শুরু করেছেন।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, টাওয়ার হ্যামলেটসের জনগণের আসন্ন দুর্দিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরুনসহ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে এরই মধ্যে তিনি কয়েক দফা কথা বলেছেন।

রোশনারার আশঙ্কা- শিক্ষাখাতে টোরি-লিবডেম সরকারের বাজেট কর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি তিগ্রস্ত হবে ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটি। বিশেষ করে টাওয়ার হ্যামলেটসের বাংলাদেশিরা। তার ধারণা ছাত্রছাত্রীদের যে এডুকেশন মেইনটেনেন্স এলাউন্স দেওয়া হয়, তা বন্ধ হয়ে গেলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর ওপর।

মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা নেওয়ার পর ফুলটাইম ছাত্রছাত্রীদের বছরে ১৫ শ’ পাউন্ড করে এই মেইনটেনেন্স এলাউন্স দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমান কোয়ালিশন সরকার তা বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে।

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বৃহত্তর লন্ডনের মধ্যে বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারারই সবচেয়ে বেশি ছাত্রছাত্রী এই এলাউন্স পায়। তাদের পড়ালেখাও নির্ভর করে এই এলাউন্সের ওপর।

লেবার সরকার তাদের মেয়াদে উচ্চশিক্ষার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই এলাউন্স চালু করেছিল। যেসব পরিবারে পর্যাপ্ত আয় নেই সেসব পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা এই এলাউন্স পেতো। টাওয়ার হ্যামলেটসের ৮৮ শতাংশ ছাত্রছাত্রী এই এলাউন্স পায়, যা বন্ধ হওয়ার পথে। ফলে সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশি অধ্যুষিত এই এলাকার হাউজিং সমস্যাও প্রকট। সরকারি হিসেবে টাওয়ার হ্যামলেটস এ এখনও ৭ হাজারের মত বাসস্থান আছে যা খুবই নিম্নমানের। বিগত লেবার সরকারের আমলে এইসব নিম্নমানের বাড়ি মানসম্মত করতে ‘ডিসেন্ট হোম স্টান্ডার্ড স্কিম’ নামে একটি স্কিম চালু হয়েছিল। এই স্কিমের অধীনে টাওয়ার হ্যামলেটসের জন্য ২২২ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্ধ করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার মতায় আসার পর এই স্কিমের কার্যক্রমও অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এমপি রোশনারা আলী এ স্কিমটির ভবিষ্যত সম্পর্কেও পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছেন।

রোশনারার প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোনো একটি এলাকার ৫৮ শতাংশ বাসস্থান ডিসেন্ট হোম স্টান্ডার্ড এর নয়, এটি কোনোমতেই গ্রহনযোগ্য নয়। রোশনারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এরিক পিকলের সঙ্গেও দেখা করেছেন। বর্তমানে এ বিষয়টি নিয়ে হাউজিং কর্পোরেশনের তদন্ত চলছে, এই তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে ‘ডিসেন্ট হোম স্টান্ডার্ড স্কিম’ এর ভবিষ্যৎ।

বর্তমান সরকারের আমলে ব্যবসা ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্রিটেনের বাংলাদেশিরা। ‘কারি ইন্ডাস্ট্রি’ খ্যাত রেস্টুরেন্ট ব্যবসাও সরকারের ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে আজ হুমকির মুখে। বাংলানিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে- ব্রিটেনের বিভিন্ন শহরের ছোট ছোট অনেক রেস্টুরেন্ট ও টেকওয়ে এরই মধ্যে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কিছু কিছু বন্ধ হয়ে গেছে।

চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের ফলেও অনেক বাংলাদেশি বেকার হয়ে পড়ছেন। বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় চাকরি নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি বড় অংশ নির্ভেজাল জীবন যাপন করছিলেন। কিন্তু বর্তমান সরকারের ছাঁটাই পরিকল্পনার কারণে সবার মধ্যেই আতঙ্ক কাজ করছে। এরই মধ্যে অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন খালি হাতে।

সবকিছু মিলিয়ে ভালো নেই ব্রিটেনের অভিবাসী বাংলাদেশিরা। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, পুরো ব্রিটিশ সমাজেই এখন চলছে অস্থিরতা।

অন্যদিকে স্বস্তিতে নেই জোট সরকারের শরীক দুই দল কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমেক্রেট। বাজেট কর্তন, চাকরি ছাঁটাই, ট্যাক্স বাড়ানো ইত্যাদির ফলে দ্রুত জনপ্রিয়তা হারিয়ে তাদের মধ্যেও কাজ করছে অস্থিরতা। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা ওল্ডহামের পার্লামেন্টারি উপনির্বাচনে সরকারি জোটের ভরাডুবি তাদের দ্রুত জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

গত বছরের ৬ মে সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী লেবার পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে কনজারভেটিভ প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান যেখানে ছিল মাত্র শ’ খানেক, সেখানে গত বৃহস্পতিবারের উপনির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরুনের কনজারভেটিব পার্টির প্রার্থী ১০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে লেবার প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ব্রিটিশ মিডিয়া সরকারের এই পরাজয়ের কারণ হিসেবে দ্রুত তাদের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াকেই চিহ্নিত করছে।

বাংলাদেশ সময় : ০৪৩৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৭, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts