Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

ব্রিটেনে বাঙালির ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী চলছে লন্ডনে

ব্রিটেনে বাঙালির ইতিহাস নিয়ে প্রদর্শনী চলছে লন্ডনে

লন্ডন: ব্রিটেনে বাঙালির প্রথম বসতি স্থাপনের ইতিহাসের খোঁজে পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসে চলছে মাসব্যাপি ইতিহাস ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই প্রদর্শনী চলবে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

নতুন প্রজন্মের বাঙালি বংশোদ্ভূতসহ মূল ধারার বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিদিনই পূর্ব লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল লাইব্রেরিতে চলমান এই প্রদর্শনীতে জড়ো হচ্ছেন। গত শতাব্দীর প্রথম দিকে ব্রিটেনে আসা প্রথম প্রজন্মের বাঙালির ইতিহাস, কর্মকাণ্ড, সাফল্য-ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে।

বিশিষ্ট বাঙালি মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমদ উল্লা ও লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার, বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক জন ইভারসলি’র যৌথ সম্পাদনায় ও হেরিটেজ লটারি ফান্ড এর অর্থায়নে প্রকাশিত ব্রিটেনে বাঙালির শেকড় সন্ধানী গ্রন্থ ‘বেঙ্গলি হিস্টরি ইন দ্যা ইস্ট এন্ড’ গ্রন্থে সংকলিত বিভিন্ন দুর্লভ ছবি প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে। ব্রিটেনে প্রথম প্রজন্মের বাঙালি অভিবাসীদের আগমনের ইতিহাস, কর্মকাণ্ড, জীবনযাত্রা ইত্যাদিও তুলে ধরা হয়েছে প্রদর্শনীতে।

প্রদর্শনীর উদ্যোক্তা সংগঠন স্বাধীনতা ট্রাস্ট। প্রদর্শনীতে ১৭৬৫ সালে বাঙালির প্রথম প্রজন্মের ব্রিটেনে আগমনের ইতিহাস যেমন স্থান পেয়েছে, ঠিক তেমনি স্থান পেয়েছে ব্রিটিশ মূলধারায় প্রতিষ্ঠিত আজকের সমৃদ্ধ বাঙালি কমিউনিটির ইতিহাস। গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে জাহাজে চাকরির সুবাদে ব্রিটেনে আগত বাঙালিদের ইতিহাস তুলে ধরে তাদের তখনকার জীবনযাত্রা, বিভিন্ন দুর্লভ ছবি প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এই ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তখনকার সময়ে একসাথে বসবাসরতদের অবসর কাটানো, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত কয়েকজন নাবিকের খোদাই করা নাম, বাঙালি পরিচালনাধীন হেরিটেজ বিল্ডিংখ্যাত ব্রিকলেন মসজিদ ও আজকের সমৃদ্ধ কমিউনিটির অন্যতম নিদর্শন বাঙালির ভাষা আন্দোলনের প্রতিক পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ মিনার ইত্যাদি।

গত শতকের প্রথম দিকে ব্রিটেনে আগতদের নেতৃত্বদানকারী কয়েকজনের ছবিও  প্রদর্শিত হচ্ছে প্রদর্শনীতে। সবচেয়ে বেশি ছবি ও ইতিহাস উঠে এসেছে গত শতকের ২০ থেকে ৩০ এর দশকে আগত বাঙালি জাহাজী নাবিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে। পাশাপাশি উঠে এসেছে ব্রিটিশ মূলধারায় বাঙালির আজকের অবস্থান। প্রদর্শনীতে ব্রিটেনের চরম বর্ণবাদীদের বিরুদ্ধে বাঙালির বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের ইতিহাস বর্ণনা করে ৭০ ও ৮০ এর দশকে বর্ণবাদ প্রতিরোধ আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের অবদানের কথাও স্মরণ করা হচ্ছে। বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগের শেষ দিকে বিপুল সংখ্যক বাঙালির ব্রিটেনে আগমনের ইতিহাস প্রদর্শন করে বাঙালির হাজার বছরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি সাথে নিয়ে আসার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আনসার আহমেদ উল্লা বাংলানিউজকে বলেন, ‘নতুন প্রজন্মের ব্রিটিশ বাঙালিরা জানেনা ব্রিটেনে তাদের পূর্ব পুরুষের টিকে থাকার নিরন্তর সংগ্রামের কথা। ব্রিটিশ মূলধারায় বাঙালি কমিউনিটির আজকের সম্মানজনক অবস্থানের পেছনে এক সময় জাহাজী নাবিক হিসেবে চাকরি নিয়ে আসা পূর্ব পুরুষদের অবদান যে কতটুকু বাঙালির নতুন প্রজন্মসহ ব্রিটিশ মুলধারাকে সেটি জানাতেই এই প্রদর্শনীর আয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে জাহাজী নাবিক হিসেবে যেসব বাঙালি দেশ ছেড়েছিলেন তারাই এক সময় ইস্ট ইন্ডিয়া ডক কোম্পানিতে কাজ নিয়ে এসে ওঠেন পূর্ব লন্ডনের ওয়াপিং ও শ্যাডওয়েল এলাকায়। এদের মাধ্যমেই টাওয়ার হ্যামলেটস এ বাঙালির বসতি শুরু। এই নাবিকরা তখন লস্কর নামেও পরিচিত ছিলেন। এরপর গত শতাব্দীর মধ্যভাগের শেষের দিকে ভাওচার ভিসায় দ্বিতীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে ব্রিটেনে আসা শুরু হয় বাঙালিদের।’

আনসার বলেন, ‘টাওয়ার হ্যামলেটস এ বাঙালির বসবাস আজকের মত সব সময় সুখকর ছিলো না। বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে করেই আজকের এই সুখকর বসবাস অর্জন করতে হয়েছে। বর্ণবাদ বিরোধী এই আন্দোলন বাঙালিদের দ্বারা শুরু হলেও এক পর্যায়ে এর সাথে সংযুক্ত হয় শুভবুদ্ধি সম্পন্ন শ্বেতাঙ্গসহ অন্যান্য সংখ্যালগু সম্প্রদায়ও। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই আজ বর্ণবাদমুক্ত এই এলাকা।’

বাংলাদেশ সময়: ০৭২৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ২০, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts