Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

সংখ্যালঘু নির্যাতন: তদন্তের প্রশংসা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে

হাউস অব কমন্স থেকে: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বিষয়ক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের সাম্প্রতিক রিপোর্টের প্রশংসা করা হয়েছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অবস্থান’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ প্রশংসা করা হয়। 

ব্রিটেনের অল পার্টি পার্লামেন্টারি হিউম্যান রাইটস গ্রুপের ভাইস চেয়ার প্রবীণ ব্রিটিশ রাজনীতিক লর্ড এভিবুরির আমন্ত্রণে ও ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ক্ষমতালাভের উষালগ্নে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করায় সেমিনারে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনকে অভিনন্দন জানান ব্রিটেনের সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা। 

সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকেলে হাউস অব কমন্সের কমিটি রুম ২ তে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন মানবাধিকার নেতা লর্ড এভিবুরি। 

মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ বিষয়ক পরিচালক আব্বাস ফয়েজ।

অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান সেমিনারে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আলোচক হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. ডেভিড লুইস, মাইনোরিটি রাইটস গ্রুপের পক্ষে সেলিনা তাওয়ার, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, আহমদিয়া মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সালিম মালিক, জুম্মা পিপলস নেটওয়ার্কের লাল আমলাই, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ইউনিটি কাউন্সিলের দিরেন হালদার ও সাংবাদিকদের পক্ষে বাংলানিউজ প্রতিনিধি। 

সেমিনারে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্রিটিশ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র গীতা সায়গাল। 

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জাসদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক ও প্রজন্ম ৭১ এর আহমদ নুরুল টিপু।

মূল আলোচক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনেলের বাংলাদেশ ডেস্কের পরিচালক আব্বাস ফয়েজ তার সফরের রিপোর্ট দিতে গিয়ে বলেন, ‘২০০১ সালে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার বিভাগীয় তদন্ত রিপোর্টে দোষীদের চিহ্নিত করা হয়েছে, যা একটি প্রশংসনীয় বিষয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ রিপোর্টে সন্তুষ্ট। সরকার রিপোর্ট অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এটি আমাদের বিশ্বাস।’

সাংবাদিকদের পক্ষে বাংলানিউজ প্রতিনিধি বিগত সরকারের আমলে সাংবাদিক নির্যাতনের মোট ২৩টি ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, এর কোনোটিরই বিচার হয়নি। নির্যাতিত সাংবাদিক ও তাদের পরিবার এখনও বিচারের আশায় অপেক্ষমান।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হাইকমিশনার ড. সাইদুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণের কারণেই সংখ্যালঘুরা আজ নিরাপদে বসবাস করছেন। 

অতিথি আলোচক হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মভীরু মুসলমানের বসবাসস্থল বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করে আসছে। ক্ষমতার লোভে বিভিন্ন সময় সামরিক শাসক ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকরা সাম্প্রদায়িকতার আমদানি করে বাংলাদেশকে একটি উগ্র ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। 

সেমিনারের সভাপতি লর্ড এভিবুরি তার বক্তৃতায় বলেন, ‘৭১ এর ভিকটিমরা অবশ্যই ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার উদ্যোগও বাংলাদেশ সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এই বিচারকে আন্তর্জাতিক মানদন্ডে সম্পন্ন করতে পারলে তা হবে বিশ্বের জন্যে একটি মডেল, আমরা চাই বাংলাদেশ সেই মডেল হিসেবেই আভির্ভূত হউক বিশ্বের সামনে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৩৩৫ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ১৩, ২০১১
Link To Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts