Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

উত্তরাধিকারের রাজনীতিকে টিউলিপের না (ভিডি

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

লন্ডন: পরিবারের উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনীতি করতে চাই না বলেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে অংশ নিয়েছি।  বৃহস্পতিবার লন্ডনে সাংবাদিকদের সামনে একথা বলেছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক।

 গত রোববার পার্টির স্থানীয় সদস্যদের চূড়ান্ত ভোটে কেন্দ্র্রীয় লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন সংসদীয় আসনে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সাথে এক আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক সম্মেলনে টিউলিপ এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি রেখে কেন তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে, এ এক প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আমার নানা, আমার খালা প্রধানমন্ত্রী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি যদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে জড়িত হতাম, তাহলে আপনারাই বলতেন যে, নানা বা খালার যোগ্যতায় আমি রাজনীতিতে এসেছি।
এই উত্তরাধিকারের রাজনীতি বয়ে বেড়াতে চাই না বলেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে আমার যোগদান। নিজ সংসদীয় আসনের ফায়ার এন স্পাইস রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে টিউলিপের মা শেখ রেহানা উপস্থিত থাকলেও আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং এর সময় তিনি তাঁর পাশে বসেন নি। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি নির্বাচিত হলে টিউলিপ স্থানীয় জনগণের বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষাক্ষেত্রে আরও উন্নয়নের জন্যে কাজ করে যাবেন বলে সাংবাদিকদের জানান।

রাজনীতিতে থেকে জনগণের সেবা করে যেতে কমিউনিটির সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে টিউলিপ বলেন, আমি একজন ব্রিটিশ, একজন মুসলমান। বাংলাদেশ আমার মাতৃভূমি। বাঙালি জাতির জনক আমার নানা হলেও তাঁকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি।
কিন্তু রাজনীতিতে গণতন্ত্র চর্চায়  খালা শেখ হাসিনার অবিরাম পথচলা আমি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি। তাই রাজনীতির সাথে আমার পারিবারিক সম্পৃক্ততা রাজনীতির প্রতি আমাকে আগ্রহী করেছে।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের পথম বাঙালি এমপি রোশনারা আলীকে তাঁর রোল মডেল উল্লেখ করে টিউলিপ বলেন, রোশনারার রাজনৈতিক কমিটমেন্ট আমার মত অনেককেই রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি বলেন, রোশনারার নির্বাচনী কাজে আমার সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ হয়েছে, এই সুযোগ থেকেও জনগণের জন্যে কাজ করার উৎসাহ পেয়েছি। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, বর্তমান বিরোধী দলীয় নেতা এড মিলিব্যান্ডসহ লেবার পার্টির সিনিয়র নেতাদের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে টিউলিপ বলেন, এদের সান্নিধ্যই আজকে ব্রিটিশ রাজনীতির এই পর্যায়ে আসতে আমাকে সাহায্য করেছে।

পার্টি লিডার এড মিলিব্যান্ড ব্রিটেনের আগামী প্রধানমন্ত্রী, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে টিউলিপ বলেন, এড মিলিব্যান্ডের নেতৃত্বেই আগামীতে অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠবে ব্রিটেন এমনটাই আমাদের আশা। তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবা খাতগুলো আবারও জনগণের জন্যে সহজলভ্য করতে তাঁর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, এই এলাকায় আমার ছোটবেলা কেটেছে, এই এলাকায় আমার স্বামীকে নিয়ে আমি বসবাসও করছি। সুতরাং এই এলাকার জনগণের প্রতি আমার একটি দায়িত্ব আছে। সবার সহযোগিতা নিয়ে এই দায়িত্ব আমি সুষ্টুভাবে পালন করতে চাই।

তাঁর সংসদীয় এলাকায় একটি ভালো মসজিদের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে এক প্রশ্নকর্তা এ বিষয়ে সহযোগিতা দিলে আগামী নর্বাচনে টিউলিপ লাভবান হবেন, এমন মন্তব্য করলে টিউলিপ বলেন, মসজিদ প্রতিষ্ঠায় আমার সহযোগিতার সাথে ভোট লড়াইয়ের বিষয়টি আমি সংযুক্ত করতে চাই না। ভোট না পেলেও মসজিদ প্রতিষ্ঠায় আমার সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা থাকবে।

তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের জনগণও আনন্দিত হয়েছেন, এমন খবর টিউলিপকে দিলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। প্রার্থী মনোনীত হওয়ার যত না কঠিন, তার চেয়ে কঠিন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া। নির্বাচনসহ রাজনীতির সার্বিক পথ চলায় আমার মাতৃভূমির জনগণেরও দোয়া চাই আমি।
আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং শেষে শেখ রেহানাকে কিছু বলার জন্যে উপস্থিত সাংবাদিকরা অনুরোধ করলে প্রথমে তিনি কিছু বলতে রাজি হন নি। তিনি বলেন, আজ টিউলিপের দিন, আমার কিছু বলার নেই। এরপরও তিনি বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টে বাবা-মাসহ পরিবারের সবাইকে হারিয়ে আমি যখন লন্ডন এলাম, তখন টিউলিপের আজকের এই নির্বাচনী এলাকায়ই এসে উঠেছিলাম।

কিছুটা আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, দিনের পর দিন এই এলাকার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি একটি চাকুরির খোঁজে। টিউলিপের বাবার সাথে আমার বিয়েও হয় এই এলাকায়। আমার সন্তানদের জন্মও এখানে। আজ টিউলিপ আমার দু:সময়ে আশ্রয় দেয়া এই এলাকার প্রার্থী হিসেবে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, এর চেয়ে বিরাট পাওয়া আমার জন্যে আর কি আছে।

রেহানা বলেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় বড় কথা নয়, আমাদের দুর্দিনে যে এলাকা আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল, সেই এলাকার জনগণের সেবা করার সুযোগ পেয়েছে টিউলিপ এটিই আমাদের জন্যে অনেক বড় পাওয়া। টিউলিপের বিয়ে ও এমপি প্রার্থী নির্বাচিত হওয়াকে একই সাথে দুটো বিরাট গুরু দায়িত্ব উল্লেখ করে শেখ রেহানা ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বাংলাদেশের জনগণের কোছেও তার মেয়ের জন্যে দোয়া প্রার্থনা করেন।

রেহানার পর টিউলিপ সম্পর্কে আরেকটি ছোট্ট বক্তব্য রাখেন স্থানীয় লেবার পার্টির নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পারভেজ আহমেদ।
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুর নাতনি ও শেখ রেহানা কন্যা টিউলিপ সিদ্দিকী সম্প্রতি ব্রিটিশ লেবার পার্টির পার্লামেন্টারি প্রার্থী মনোনীত হন। ২০১৫ সালে ব্রিটেনের সাধারণ নির্বাচনে তিনি লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

টিউলিপের সংসদীয় আসন কেন্দ্রীয় লন্ডনের হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন এর লেবার পার্টির সদস্যরা ভোট দিয়ে আগামী পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাকে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেন।
পার্লামেন্টারি প্রার্থী হওয়ার পথে টিউলিপের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় হ্যাকনি বারার ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর সোফি লিনডেন ও ক্যামডেন বারার কাউন্সিলর সেলি গিমজনের। টিউলিপ নিজেও ক্যামডেন বারার রিজেন্টস পার্ক ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর। বারায় তিনি ক্যাবিনেট লিড মেম্বারের দায়িত্ব পালন করছেন। লেবার পার্টির প্রেস অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন টিউলিপ।
২০১০ সালে টিউলিপ ক্যামডেন বারার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তিনিই এই বারার প্রথম বাঙালি মহিলা কাউন্সিলর। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ রেহানা ও ড: শফিক সিদ্দিকীর মেয়ে টিউলিপের জন্ম ব্রিটেনে হলেও তার শৈশব কেটেছে ৭টি বিভিন্ন দেশে। ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী টিউলিপ পড়াশোনা করেছেন ইউনিভার্সিটি কলেজ অব লন্ডনে। তিনি পলিটিক্স, পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট বিষয়েও দ্বিতীয়বার মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
সম্প্রতি টিউলিপ বিয়ে করেন ক্রিস পার্সি নামের এক ব্রিটিশ নাগরিককে। লন্ডনে বিয়ে পরবর্তী অনুষ্ঠানে তার খালা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও যোগ দেন।

বাংলাদেশ সময়: ২১০৮ ঘণ্টা, জুলাই ১৮, ২০১৩

0 comments:

Post a comment

Popular Posts