Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগ। ছবি : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
হোটেল হিল্টন অন পার্ক লেইন, লন্ডন থেকে:  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে বাংলাদেশের বর্তমান মহাজোট সরকারের উন্নয়ন প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে ব্রিটেন।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ছয়টায় লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগ সাক্ষাৎ করতে এসে শেখ হাসিনা সরকারের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অর্জিত সফলতার প্রশংসা করেন।

এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন হেইগ।

দুই নেতার সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগের সাথে ছিলেন ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ বিভাগের সিনিয়র মন্ত্রী ব্যরোনেস সাঈদা ওয়ারসী এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ জিয়া উদ্দিন আহমদ, ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ।

দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি হাসিনা-হেইগ বৈঠকের ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাক্ষাত করতে এলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অব্যাহত সহায়তার জন্যে প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেন সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী দেশ হিসেবে ব্রিটেন এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলেও এসময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম হেইগকে জানান, রাজনীতিকে পার্লামেন্ট কেন্দ্রিক করতে সম্ভাব্য সব চেষ্টাই অব্যাহত রেখেছে তার সরকার। ব্রিটিশ ওয়েস্ট মিনিস্টার স্টাইলের পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র চর্চা করতে চায় বাংলাদেশ। এই সিস্টেম অব্যাহত রেখেই প্রতি পাঁচ বছর পরপর সরকার পরিবর্তন হোক এটিই চায় তাঁর দল ও জোট।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তত্বাবধায়ক সিস্টেম গণতন্ত্রের জন্যে কোনো সম্মানজনক পন্থা নয়, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আমাদের সবাইকে এটি বুঝতে হবে। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশনই পারে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে। বর্তমান সরকার এধরনেরই একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্চ কমিটি করে যাচাইয়ের  মাধ্যমেই এই নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে এমন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন আর কোনো সরকার উপহার দিতে পারেনি জাতিকে।

শেখ হাসিনা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরও জানান, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় এই নির্বাচন কমিশিনের অধীনেই স্থানীয় সরকারসহ প্রায় ৬ হাজার সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বসাম্প্রতিক সম্পন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কথাও উইলিয়াম হেইগকে এসময় জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া মেনে নিয়েই আমাদের রাজনীতি করতে হবে, এটি সবারই বোঝা উচিত।

বিরোধী দলকে সংলাপের প্রস্তাব দেয়ার কথা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, সংলাপের প্রস্তাব দিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আমরা পেলাম ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম। এই আল্টিমেটামের মধ্যেই রাজধানীতে চালানো হয় ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম। সংলাপ প্রস্তাবের জবাবে ৪৮ ঘন্টার আল্টিমেটাম অসাংবিধানিক পন্থাকেই উৎসাহিত করে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু. অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে ব্রিটেন সম্ভব সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

‘গণতন্ত্রের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো সংলাপ’ একথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনের জন্যে সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য পথ ও উপায়  খুঁজে বের করবে বলেই আশা করে ব্রিটেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি প্রশংসার দাবি রাখে।

সন্ত্রাস দমনে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে উইলিয়াম হেইগ কাউন্টার টোরোরিজম বিষয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে ব্রিটেন-বাংলাদেশ একসাথে কাজ করার বিষয়ে অঙ্গিকারাবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন উইলিয়াম হেইগ।

উইলিয়াম হেইগ রানা প্লাজা ধ্বসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা স্মরণ করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশের গার্মেন্ট খাতে যেসব ঘাটতি আছে সেসব পূরণ করতে বংলাদেশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ করবে। এই কাজে ব্রিটেন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

হাসিনা-হেইগ আলোচনায় মিসরসহ বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয় বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, দুই নেতার আলোচনায় ব্রিটেন-বাংলাদেশ পারষ্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় স্থান পায়।

বাংলাদেশ সময়: ০৩২৮ ঘণ্টা, জুলাই ০৫, ২০১৩

0 comments:

Post a comment

Popular Posts