Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

‘বিবিসি-সিএনএন, ওপেন ইয়োর আইজ’


সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বিবিসি হেডকোয়ার্টার, লন্ডন থেকে: বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে তরুণ প্রজন্মের সাম্প্রতিক গণজাগরণের সঠিক খবর প্রচারের দাবিতে লন্ডনে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) প্রধান কার্যালয়ের সামনে বুধবার বিক্ষোভ করেছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্ম।

ফেসবুক ও টুইটারের মাধ্যমে আহ্বান করা এই বিক্ষোভে তরুণ প্রজন্ম ছাড়াও সব বয়সের প্রায় সাত শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

বিক্ষোভে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সম্প্রতি শুরু হওয়া তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন সম্পর্কে বিবিসি, সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম সঠিক সংবাদ পরিবেশন করছে না, এমন অভিযোগ করে বিক্ষোভকারীরা বিবিসি কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়ক স্লোগানে স্লোগানে মুখর করে তোলেন।

এসময় অনেক ব্রিটিশ উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের কাছে বিক্ষোভের কারণ জানতে চাইলে ব্রিটেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তরুণ বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ ১৯৭১ সালের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও এই বিচারে বিবিসি-সিএনএন’র পক্ষপাতমূলক সংবাদ পরিবেশনের কথা জানান।

এসময় ‘বিবিসি-সিএনএন অপেন ইয়েরর আইজ’, ‘ওয়ার ক্রিমিনাল কাদের মোল্লা উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ওয়ার ক্রিমিনাল সাঈদী উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ওয়ার ক্রিমিনাল গোলাম আযম, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, এরকম নানা স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে লন্ডনের রাজপথ।

লন্ডন সময় বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই বিক্ষোভের সময় উপস্থিত জনতা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত গেয়েও পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে উপস্থিত থাকলেও  কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানার প্রদর্শিত হয়নি। এছাড়া স্কুল-ফেরত সন্তানদের নিয়ে অনেক অভিভাবকও এ সময় বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং সঠিক খবর প্রচারের দাবিতে সংগ্রহ করা হয় গণস্বাক্ষর।

পরে পাঁচ শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরসহ একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয় বিবিসি কর্তৃপক্ষকে।

তরুণদের পক্ষে অজন্তা দেব রায়, মাসুদ রানা, নিঝুম মজুমদার, স্মৃতি আজাদ ও এরশাদ আলমগীরসহ অন্যরা এই স্মারকলিপি বিবিসি দফতরে পেশ করেন। বিবিসি’র পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন বিবিসি কর্মকর্তা মি. মাইক।

স্মারকলিপিতে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে বিবিসিসহ কোনো কোনো সংবাদ মাধ্যম সঠিক খবর পরিবেশন করছে না, এমন অভিযোগ করে বলা হয়, ‘পবিত্র ধর্ম ইসলামের নাম নিয়ে ৭১ সালে যারা পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগী হয়ে বাংলাদেশে গণহত্যায় মেতে উঠেছিল, দীর্ঘ ৪১ বছর পর এদের যখন বিচারের কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে, তখন এই গণহত্যাকারীদের ইসলামি আন্দোলনের নেতা উল্লেখ করে কোনো কোনো আন্তর্জাতিক মিডিয়া বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছে।’

বিক্ষোভ কর্মসূচির অন্যতম উদ্যোক্তা অজন্তা দেব রায় বাংলানিউজকে বলেন, ‘‘একাত্তরের গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রাজনৈতিক কোনো দ্বিধা বিভক্তির বিষয় নয়। এই ইস্যুতে জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ।’’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক কিছু মানুষ এই বিচারের বিরুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পাই নি। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র ও সহিংস বিরোধিতা করে যারা ৩০ লাখ মানুষের গণহত্যায় নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিল, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিকে আমরা এই প্রজন্ম দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করেছি।”

অজন্তা বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষ আমাদের একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন, আমরা এই প্রজন্ম দেশকে রাজাকারমুক্ত করে পরবর্তী প্রজন্মকে উপহার দিতে চাই।”

প্রসঙ্গত, বুধবার বিক্ষোভ কর্মসূচি ছাড়া আল জাজিরা, ইকোনমিস্ট, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ের সামনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের পক্ষ থেকে জানা যায়।

স্থ‍ানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রদীপ প্রজ্বলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে বুধবারের বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে জানানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৩
Link to article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts