Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

বিচারে পূর্ণ সমর্থন ব্রিটেনের: ব্রিটিশ ফরেন অফিস


সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
বিচারে পূর্ণ সমর্থন ব্রিটেনের: ব্রিটিশ ফরেন অফিস
ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস, সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে: ’৭১-এ মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের রায়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস (এফসিও) বলেছে- ‘অপরাধ নির্মূলে অপরাধীর শাস্তির কোনো বিকল্প নেই।’

অফিস বলছে-‘অপরাধের বিচার না হলে জনগণের মধ্যে এটি একটি ভুল বার্তা হিসেবে উপস্থিত হয়, যা পরবর্তীতে অপরাধের প্রতি অপরাধীদের আরও উৎসাহী করে তোলে। অপরাধ যত পুরনোই হোক, বিচারের কাঠগড়ায় এটিকে আনতেই হবে। আইনের শাসন অব্যাহত রাখতেই সব সময় এটি প্রয়োজন।’

ব্রিটেন সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ব্রিটিশ ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলানিউজের প্রশ্নের উত্তরে এফসিও (FCO)-এর সিনিয়র মিনিস্টার সাঈদা ওয়ারসী এ মন্তব্য করেন।

এফসিও মিনিস্টার ব্যারোনেস ওয়ারসীর সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঘণ্টা দুয়েক আগে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সাঈদীর ফাঁসির আদেশের রায় দেয়।

এ আদেশে ব্রিটেনের প্রতিক্রিয়া কী বাংলানিউজ প্রতিনিধির এ প্রশ্নের জবাবে সাঈদা ওয়ারসী বলেন, “এইমাত্র আমি আইসিটি-র এ রায়ের খবর শুনেছি। আমরা আগেও বলেছি, এখনও বলছি- ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার বাংলাদেশের জনগণের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং সম্প্রতি শুরু হওয়া এ বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি ব্রিটেনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।”

তিনি বলেন, “নীতিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী হলেও সব ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের পক্ষে ব্রিটেন।”

ওয়ারসী বলেন, “ব্রিটেন অনেক বছর আগেই বিচার প্রক্রিয়া থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করেছে। সব দেশই যাতে এই বিধানটি বাতিল করে, সে ক্যাম্পেইনও আমরা করছি।”

তিনি বলেন, “ব্রিটেন ছাড়াও পৃথিবীর অনেক দেশই এখন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিজেদের বিচার ব্যবস্থায মৃত্যুদণ্ডের বিধান রহিত করার পদক্ষেপ নিচ্ছে।”

ব্রিটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার বলেন, “অপরাধ করে শাস্তি না পেলে সভ্য দুনিয়ায় অপরাধীর সংখ্যা বেড়ে যাবে। কোনো বিবেকবান মানুষই অপরাধীর বিচার না হওয়ার পক্ষে থাকতে পারেন না।”

তিনি বলেন, “ব্রিটেন ৭১-এর মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চায়। তবে এই বিচার যেন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আইনের বিধানের মাধ্যমেই হয়, বিচার শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের একই অবস্থান।”

তিনি আশা রেখে জানান, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সেই স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।”

সম্প্রতি, তার বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার ব্যারোনেস সাঈদা ওয়ারসী শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে‌ ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।

এবিষয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অপরাধের বিচারের পক্ষেই প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”

জামায়াত নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, “নিষিদ্ধ নয়, রাজনৈতিকভাবেই এসব সমস্যা মোকাবেলা করা উচিত।”

তার দেশে বর্ণবাদী ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (বিএনপি) রাজনীতি মোকাবেলা করার কথা উল্লেখ করে ব্যারোনেস ওয়ারসী বলেন, “ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টিকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করছি। আর তাই, জনগণের মধ্যে দলটির গ্রহণযোগ্যতা নেই। এটিকে নিষিদ্ধ করলে জনগণ এদের রাজনীতির নেতিবাচক দিকটি বুঝতে পারতো না।”

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে ব্যারোনেস ওয়ারসী বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুটি বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য সম্ভব সবকিছুই করছে। কিন্তু, এটাই তো সমাধান নয়।”

একজন শরণার্থীর দেশে ফিরে যাওয়ার আকুলতার কথা উল্লেখ করে ব্রিটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে বার্মার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছি।”

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনী পদ্ধতি নিয়ে ব্রিটেন কী ভাবছে, এ প্রশ্নের জবাবে সাঈদা ওয়ারসী বলেন, “কোন দেশ কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করবে, এটি তার নিজস্ব বিষয়। সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোই তা নির্ধারণ করবে। তবে প্রতিটি নির্বাচনই যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, ব্রিটেনের চাওয়া এটিই।”

ব্রিটিশ ফরেন অফিস মিনিস্টার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, মিডিয়া পারর্সোনেলিটিজদের সঙ্গে তার বৈঠকসহ সিলেটে সংবর্ধনা দেওয়ার কথাও সাংবাদিকদের জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২০৩৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৩
Link to article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts