Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

লন্ডনে হয়ে গেলো বাংলাদেশি ঐতিহ্য উৎসব


লন্ডন করেসপন্ডেন্ট
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
লন্ডন: বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ফ্যাশন, ফেব্রিকস, ডিজাইন মিউজিক নিয়ে লন্ডনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো তিন দিনব্যাপী উৎসব ‘ঐতিহ্য’।

২২ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) থেকে শুরু হয়ে ২৪ ফেব্রুয়ারি (রোববার) পর্যন্ত লন্ডনের টেমস নদীর তীরে অবস্থিত বিখ্যাত ওক্স টাওয়ার হোয়ার্ফে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। শুক্রবার উৎসবের উদ্বোধন করেন ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মিজারুল কায়েস। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিসহ জাতি হিসেবে বাঙালির গর্ব করার মতো যে ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে তার সঙ্গে ব্রিটিশ মূলধারার জনসাধারণ ও ব্রিটেনে জন্ম, বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতেই ‘ঐতিহ্য’ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রতিদিনই বিভিন্ন বর্ণের বিপুলসংখ্যক মানুষ উৎসবের প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেছেন। ওক্স টাওয়ার হোয়ার্ফের বার্জ হাউসে পাঁচটি ফ্লোরে আয়োজিত এই উৎসবে প্রদর্শনী ছাড়াও শিল্পকলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কমিউনিটি ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনুষ্ঠিত হয় ভিন্ন ভিন্ন সেশন। ‘আড্ডা’ নামের এইসব সেশনগুলোতে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্রিটিশ-বাঙালিরা কমিউনিটি বিষয়ে তাদের ভাবনা বিনিময় করেন লাইভ অডিয়েন্সের সাথে। ‘ঐতিহ্য’ এর শেষ দিনের আয়োজনে যেমন ছিল কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের অনুষ্ঠান, তেমনি ছিল মোবো বিজয়ী জাজ পিয়ানো বাদক জয়ী রহমান ও ব্যান্ড শিল্পী ‘লক্ষ্মী টেরা’র পারফরম্যান্স। দ্বিতীয় দিন শনিবার ছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আলোকচিত্রী শহিদুল ইসলামের টক শো ও আলোকচিত্র  প্রদর্শনী।
000
একই দিন অনুষ্ঠিত হয় ‘Aspirations for a new generation of British Bangladeshi’s’ শীর্ষক আড্ডা । এই আড্ডায় স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অংশগ্রহনকারীরা কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে লাইভ অর্ডিয়েন্সের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমেদ উল্লার সঞ্চালনায় এতে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সায়েন্টিফিক সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার টিউলিপ কবির, বিজনেস ডেভভেলপমেন্ট প্রফেশনাল রুমেল আহমেদ, অক্স পার্ক সেকেন্ডারি স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট হেড টিচার লিখন মোহাম্মদ, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের আর্টস ডেভেলপমেন্ট অফিসার কাজি রোকসানা, ‘ব্র্যাক’ ইউকের চেয়ারম্যান সিমন সুলতানা ও তরুণ পাবলিক স্পিকার ও টিভি প্রেজেন্টার সৈয়দ মাহাথির পাশা। এই আড্ডায় ব্রিটেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা বর্তমান প্রজন্মের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন অতিথি ও অডিয়েন্স।

আলোচনায় অন্য বিষয়ের সাথে উঠে আসে শাহবাগের তারুণ্যের জাগরণ প্রসঙ্গ। তারুণ্যের এই জাগরণকে বাঙালির একতা, সাহস ও দেশপ্রেমের অতীতের ধারাবাহিকতা হিসেবে মন্তব্য করা হয়। ব্রিটেনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তরুণ ব্রিটিশ বাঙালিরা এই জাগরণ থেকে অনুপ্রেরণা পাবে বলেও মন্তব্য করেন কোনো কোনো বক্তা।

প্রথম বারের মতো অনুষ্ঠিত ঐতিহ্য উৎসব সফল দাবি করে এর অন্যতম উদ্যেক্তা বাংলাদেশ ব্যান্ড ফোরাম ইউকের কর্মকর্তা মাহের আনজুম বাংলানিউজকে বলেন, “আমরা এবারই প্রথম এই উৎসবের আয়োজন করি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ মূলধারা ও আমাদের কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। আমরা এতে সফল হয়েছি বলেই মনে করছি।” মেলায় বিভিন্ন বর্ণের মানুষের পাশাপাশি ইউরোপ, আমেরিকা থেকেও এসেছিলেন প্রচুর দর্শক।
00
তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে বিদেশে অধিকাংশ সময়ই দেখানো হয় গরিব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবে। কিন্তু সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার দিক থেকে বাংলাদেশ যে একটি সমৃদ্ধ ভূখণ্ড এটি খুব একটা দেখানো হয় না। আমাদের ঐতিহ্য উৎসবের লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের এই দিকটি তুলে ধরা।” মাহের জানান, এখন থেকে প্রতি বছরই তাঁরা ঐতিহ্য উৎসব আয়োজন করবেন।

ঐতিহ্য উৎসবের অন্যতম সংগঠক লিসা গাজি বাংলানিউজকে বলেন, “বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্য গর্ব করার মতো। আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ফ্যাশন, ফেব্রিকস, ডিজাইন, মিউজিক যে কোনো বিশ্ব প্রতিযোগিতায় শীর্ষে থাকার যোগ্যতা রাখে। অথচ বিশ্বের কাছে এগুলো যথাযথভাবে উপস্থাপিত হয় না। আমরা শুধু গরিব নই, নই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত জাতি। আমাদের আছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত। ৫২ ও ৭১ আছে আমাদের, যা পৃথিবীর অনেক জাতিরই নেই।”

“আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হই, এই দুর্যোগকে পরাজিত করে আবার ঘুরেও দাঁড়াই।”

সম্প্রতি শাহবাগ গণজাগরণের উদাহরণ দিয়ে লিসা বাংলানিউজকে বলেন, “এই জাগরণ আমাদের সাহস, আমাদের একতা ও দেশপ্রেমের উত্তরাধিকারই বহন করছে। সাহসী জাতি হিসেবে আমাদের পূর্ব-প্রজন্ম যেভাবে ইতিহাস সৃষ্টি করে গিয়েছেন, তারই উত্তরাধিকার বহন করছে আমাদের এই শাহবাগ প্রজন্ম। আমরা আমাদের এই অর্জনগুলো বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে চাই, আর এই লক্ষ্যেই ঐতিহ্য উৎসবের আয়োজন।”

বাংলাদেশ সময়: ২১২৬ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৩
Link to article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts