Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

Banglanews24.com::::: হারুন-কার্লাইল বৈঠক যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সহযোগিতা দিতে আগ্রহী ব্রিটেন

লন্ডন: বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পেলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ব্রিটিশ সরকার সহযোগিতা দিতে আগ্রহী। এ মন্তব্য করেছেন ব্রিটেনের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের ভাইস চেয়ার লর্ড আলেক্স কার্লাইল।

গত বৃহস্পতিবার ব্রিটেন সফররত সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান লে: জে: (অব:) হারুন অর রশীদের সঙ্গে এক বৈঠকে লর্ড কার্লাইল ব্রিটিশ সরকারের এই আগ্রহের কথা জানান।

হাউস অব লর্ডসে অনুষ্ঠিত ৩৫ মিনিটের এই বৈঠকে জেনারেল হারুনের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নেতা আনসার আহমেদ উল্লা ও বাংলানিউজের লন্ডন প্রতিনিধি।

বৈঠকে জেনারেল হারুন ৭১ এর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সর্বশেষ কার্যক্রম সম্পর্কে লর্ড কার্লাইলকে অবহিত করেন ও এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম সম্পাদক সম্প্রতি চরমপন্থিদের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা লর্ড কার্লাইলকে অবহিত করে বলেন, ‘উদার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট দেশ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সব সময়ই মৌলবাদী চরমপন্থার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানান দিয়েছে। অতীতে অবশ্য দলীয় স্বার্থ হাসিলে কোনও কোনও রাজনৈতিক দল চরমপন্থাকে উৎসাহ ও আনুকূল্য দিয়ে বাংলাদেশকে একটি ধর্মান্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার অপচেষ্টা করেছিল।’

জেনারেল হারুন লর্ড কার্লাইলকে আরও বলেন, ‘এই অপচেষ্টা চিরতরে রুখতেই মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। বাংলাদেশের ঘনিষ্ট সহযোগী ব্রিটেন যুদ্ধাপরাাধীদের বিচারের এই উদ্যোগকে সহযোগিতা দেবে এমনই আশা করছে বাংলাদেশ।’

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামনেতা ব্রিটেনে বসবাসরত অভিযুক্ত ও চিহ্নিত দুই যুদ্ধাপরাধীকে কিভাবে বিচারের আওতায় আনা যায়, এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের সহযোগিতা চান লর্ড কার্লাইলের কাছে।

জেনারেল হারুনের অনুরোধের জবাবে লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সর্ব সাম্প্রতিক উদ্যোগ--সব বিষয়েই ভালো মত অবহিত রয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

 উল্লেখ্য, লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল ব্রিটিশ সরকারের সন্ত্রাস বিষয়ক আইনের নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক (ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিভিউয়ার) ও জোট সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের প্রভাবশালী নেতা।

ব্রিটেনে বসবাসরত ৭১ এর যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়েও ব্রিটিশ সরকার অবহিত রয়েছে-- এ মন্তব্য করে লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘এদের নেতৃত্বে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে চরমপন্থা-সংশ্লিষ্ট কর্মকা- চলছে বলে যে অভিযোগ, সে সম্পর্কেও ব্রিটিশ সরকার পুরোপুরি ওয়াকেবহাল।’

‘সচেতন থাকার পরও এইসব গ্রুপকে ব্রিটিশ সরকার কেন সহযোগিতা দিচ্ছে?’-- আলোচনায় এ প্রশ্নও উঠে আসে। জবাবে লর্ড কার্লাইল জানান, অতীতে এই সংগঠনগুলো সরকারের সাহায্য পেয়েছে ঠিক, তবে সম্প্রতি এমন সহযোগিতা দানের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

কার্লাইল জানান চরমপন্থার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে এমন কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান আর কোনও সরকারি সহযোগিতা পাবে না, এরই ধ্যে জোট সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সম্প্রতি সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশি তরুণদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে লর্ড কার্লাইল জেনারেল হারুন ও তার সঙ্গীদের কাছে জানতে চান, ‘তরুণ প্রজন্মকে চরমপন্থার প্রতি আকৃষ্ট করার এইসব অপচেষ্টা সম্পর্কে বাঙালি কমিউনিটি কি ভাবছে?’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠান তরুণ প্রজন্মকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে চরমপন্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে, এদের বিরুদ্ধে কমিউনিটিকে এখনই শক্ত অবস্থান নিতে হবে। আর এক্ষত্রেও ব্রিটিশ সরকার কমিউনিটিকে সাহায্য করতে আগ্রহী।’

বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাফল্য কামনা করে লর্ড কার্লাইল বলেন, ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ কখনই বিচারের আওতার বাইরে থাকতে পারে না, এটি যতই পুরোনো হোক। দীর্ঘ ৪০ বছর পরও বাংলাদেশ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে, এটি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই উদ্যোগে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন দেওয়া উচিত।’ বাংলাদেশের এই উদ্যোগকে ব্রিটিশ সরকার অবশ্যই সহযোগিতা দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তিনি নিজেও কাজ করতে আগ্রহী।’

অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করতে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ ও ইন্টারন্যাশনাল জুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা ও পরামর্শ নেওয়ার জন্যেও যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জেনারেল হারুনের মাধ্যমে অনুরোধ জানান কার্লাইল।

বৈঠক শেষে লর্ড কার্লাইল বাংলানিউজকে বলেন, ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটি আজ একটি শক্ত অবস্থান নিয়ে ব্রিটিশ মূলধারায় ভূমিকা রাখছে। একটি অগ্রসর ও আধুনিক কমিউনিটি হিসেবে বাংলাদেশিদের অবস্থান ঠিকিয়ে রাখতেই তরুণ প্রজন্মকে চরমপন্থায় আকৃষ্ট হওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে। এক্ষেত্রে কমিউনিটি নেতাদের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, টোরি-লিবডেম জোট সরকারের প্রভাবশালী এই ব্রিটিশ রাজনীতিক ব্রিটেনের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“পের ভাইস চেয়ার এবং সন্ত্রাস বিষয়ক আইনের ইন্ডিপেন্ডেন্ট রিভিউয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭১০ঘণ্টা, জুন ১৭, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts