Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

Banglanews24.com::::: যুদ্ধাপরাধ আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়: লন্ডনে প্রধান বিচারপতি

লন্ডন: প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেইন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।’

বুধবার লন্ডন সময় দুপুর ১২টায় হাউস অব লর্ডসে ব্রিটেনের অল পার্টি পার্লামেন্ট হিউম্যান রাইটস গ্রুপের ভাইস চেয়ার লর্ড আ্যাভিবুরির সাথে এক সৌজন্য বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেইন এ কথা বলেন।

দীর্ঘ ৪৫ মিনিটের এই বৈঠকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোরডটকম এর লন্ডন প্রতিনিধি।

‘যুদ্ধাপরাধ আইন সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না’ এ বিষয়টি সঠিক কি না লর্ড অ্যাভিবুরি তা জানতে চাইলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বিষয়টি সঠিক নয়।’

যুদ্ধাপরাধ আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এমন অভিযোগ করে হাইকোর্টে ইতিমধ্যে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধান বিচারপতি অ্যাভিবুরিকে বলেন, ‘হাইকোর্ট রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়ে বলেছে- যুদ্ধাপরাধ আইন সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ আইন যদি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করা না যেতো তাহলে তো এই রিটও হতো না।’

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন বলে দাবি করে প্রধান বিচারপতি অ্যাভিবুরিকে জানান, বিচারকদের নিয়োগ প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমেই করা হচ্ছে। এই নিয়োগ এখন আর কারও একক মনোপলি সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।

তিনি বলেন, ‘নিম্ন আদালতের বিচারক নিয়োগেও সুপ্রিম কোর্টই ভূমিকা রাখছে।’

বৈঠকে ব্রিটেনের বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে লর্ড অ্যাভিবুরি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেন। এ সময় ব্রিটেনসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা হয় অ্যাভিবুরি ও বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির মধ্যে।

বৈঠকে প্রধান বিচারপতি ব্রিটেনের ইমিগ্রেশন আইনের সাম্প্রতিক সংস্কার সম্পর্কেও জানতে চান অ্যাভিবুরির কাছে।

ইমিগ্রেশন আইনের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের ফলে ব্রিটেনে অধ্যয়নরত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের ছাত্রছাত্রীদের কাজের সুযোগ সুবিধা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে কি না, প্রধান বিচারপতির এমন প্রশ্নের জবাবে লর্ড অ্যাভিবুরি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরাও শংকিত। কাজের সুযোগ না থাকলে বিদেশি ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ার খরচই জোগাবে কোত্থেকে বা থাকা খাওয়ার বিষয়েই বা কি করবে।’

লর্ডসভায় লিবাররেল ডেমোক্র্যাট দলীয় সদস্য অ্যাভিবুরি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে জানান, পার্টনার হলেও বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের সাথে দেন দরবার করছি।’

বৈঠক শেষে ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীরা শাস্তি পাক, এমনটি তিনি চান কিনা- বাংলানিউজের এমন এক প্রশ্নের জবাবে লর্ড অ্যাভিবুরি বলেন, ‘অবশ্যই আমি চাই যুদ্ধাপরাধীরা শাস্তি পাক। তবে এই বিচারটি যাতে স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের হয় এটিই আমার কামনা।’

এ প্রসঙ্গে তিনি যুদ্ধাপরাধ আইন নিয়ে ইন্টারন্যাশনেল বার কাউন্সিলের পেশ করা সুপারিশ আমলে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, হাউস অব লর্ডসের সাথে রয়েছে ব্রিটেনের বিচার বিভাগের একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের ১১ জন বিচারপতি একাধারে হাউস অব লর্ডসেরও সদস্য।

বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৩ ঘণ্টা, জুন ২৩, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a Comment

Popular Posts