Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

banglanews24.com:::::::;লন্ডনে খালেদা: সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই

লন্ডন: লন্ডনে একের পর এক বৈঠক করে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন অব্যাহত রেখেছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। সফরের চতুর্থ দিন বুধবার রাতে ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন দল কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান সাঈদা ওয়ারসির সঙ্গে বৈঠক করেও তিনি অভিযোগের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

বুধবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় হাউজ অব কমন্সে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যানের সাথে অনুষ্ঠিত আধাঘন্টার বৈঠকে বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রী অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের পার্লামেন্টে বিরোধী দলের কথা বলার কোন পরিবেশ নেই।

দুই পার্টি চেয়ারম্যানের বৈঠকে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশাসনে দলীয় করণ, রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতন, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, জনগণের মানবাধিকার হরণ ইত্যাদি অভিযোগ উত্থাপন করা হয় বিএনপি’র পক্ষ থেকে। এমন কী লন্ডনে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সফরে স্থানীয় বাংলাদেশ হাইকমিশন ন্যায্য প্রটোকল দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয় সাঈদা ওয়ারসির কাছে। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাথে ছিলেন দলটির সহ-সভাপতি শমসের মুবিন চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা ও সাংবাদিক শফিক রেহমান, বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রেস সেক্রেটারী মারুফ কামাল খান ও  খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারি প্রেস সচিব মুশফিকুল ফজল আনসারী।

সাঈদা ওয়ারসীর সাথে ছিলেন কনজারভেটিভ দলীয় এমপি জেফ্রি ক্লিফটন ব্রাউন, এলিউড  টোবিয়াস, কনজারভেটিভ পার্টির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজার মিজ ফিলিপ ব্র“ম এবং কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ, মহিলা বিভাগের চেয়ার সাবরিনা হোসেন।

বৈঠকে উপস্থিত উদীয়মান ব্রিটিশ রাজনীতিক সাবরিনা হোসেন বাংলানিউজকে জানান, দুই পার্টি চেয়ারম্যানের বৈঠকে যার যার দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, বিএনপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, দেশের সার্বিক সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টেই তারা কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার সে সুযোগ দিচ্ছে না। পার্লামেন্টে বিরোধী দলীয় এমপিদর কথা বলার কোনও সুযোগই নেই।

বাংলানিউজকে সাবরিনা আরো জানান, বিএনপি চেয়ারপার্সন কনজারভেটিভ চেয়ারকে জানিয়েছেন, শুধু পার্লামেন্টই নয়, পার্লামেন্টের বাইরেও বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার সভা সমাবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। লন্ডনে বিরোধী দলীয় নেত্রীর সফরে স্থানীয় বাংলাদেশ হাইকমিশন ন্যায্য প্রটোকল দিচ্ছে না বলেও বিএনপি’র পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় কনজারভেটিব চেয়ারের কাছে।

সাবরিনা আরও জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা বাংলাদেশে বর্তমান প্রশাসনের দলীয়করণের ফলে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আজ ভেঙ্গে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটেনের সরকারী দলের চেয়ারম্যানের কাছে।

সরকার দলীয় কর্মীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জনজীবন আজ বিপর্যস্থ বলে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন জানান, সরকার দলীয় কর্মীদের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সারাক্ষণ বিরাজ করছে আতঙ্ক। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত। সরকারের নির্যাতন থেকে বাঁচতে মানুষ আজ মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি’র পেছনে একতাবদ্ধ হচ্ছে বলে দাবি কওে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণের চাপে বাধ্য হয়েই তাঁর দল মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি তুলেছে।

এই সরকারের হাত থেকে জনগণকে বাঁচাতে মধ্যবর্তী নির্বাচন ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না-- খালেদা জিয়া এমনটিই জানান কনজারভেটিব পার্টির পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত চেয়ার সাঈদা ওয়ারসিকে। অভিযোগের ফিরিস্তিতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর ঢাকা ত্যাগের সময় বিমান বন্দরে দলীয় নেতাদের অসম্মান করার বিষয়টিও উত্থাপিত হয় বলে বাংলানিউজকে জানান সাবরিনা।

বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীর অভিযোগের জবাবে সাঈদা ওয়ারসি তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, অভিযোগগুলো সত্যি হলে অবশ্যই তারা এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি সাঈদা ওয়ারসী বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীর কাছে জানতে চান, জনগণের জন্যে কী প্রতিশ্র“তি নিয়ে বিএনপি মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে, এবং বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে আর কী কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত?

জবাবে বিএনপি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, এরই মধ্যে নির্বাচনের ম্যানিফেস্টো তৈরির কাজ তারা শুরু করেছেন। জনগণের জীবনমানের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলোই এই ম্যানিফেস্টোতে উঠে আসবে বলে জানানো হয় ওয়ারসিকে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রাজনীতিতে পরমত সহিষ্ণুতার সংস্কৃতি চালু করা , পার্লামেন্টে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দান, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে প্রতিবন্ধকতা দূর করার কথা বলা হয় বিএনপি’র পক্ষ থেকে।

ব্রিটিশ এমপি এলিউড  টোবিয়াস বিএনপির প্রতি রাজনীতিকে পার্লামেন্ট কেন্দ্রিক করার আহবান জানালে বিএনপি নেতারা জানান, সরকারই বার বার এ বিষয়টি বাধাগ্রস্ত করছে। কনজারভেটিভ চেয়ার ওয়ারসি বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে কনজারভেটিব পার্টির এমপিদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে। এই সফরে তিনিও থাকবেন উল্লেখ করে ওয়ারসী খালেদাকে বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত ও জনগণের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ই এই সফরের উদ্দেশ্যে।

ওয়ারসি খালেদাকে আশ্বস্ত কওে বলেন, বাংলাদেশ সফরের সময় বাংলাদেশের সরকার ও বিরোধী দলীয় রাজনীতিকদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ হতে পারে। ঐ সময় সার্বিক বিষয়ে তিনি কথা বলার চেষ্টা করবেন। ঐ সফরের সময় ব্রিটিশ প্রতিনিধি দল সিলেটেও যাবে বলে জানান সাঈদা।

এদিকে, বৈঠকে উপস্থিত খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারি প্রেস সেক্রেটারি মুশফিকুল ফজল আনসারী বাংলানিউজকে জানান, সাঈদা ওয়ারসী খালেদা জিয়াকে ভারতীয় উপমহাদেশের মহিলা রাজনীতিকদের আদর্শ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটির এই প্রজন্মের তরুণীরাও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন থেকে প্রেরণা গ্রহণ করতে পারে। সাবরিনাও ওয়ারসীর এই মন্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

খালেদা-ওয়ারসি বৈঠক শেষে হাউজ অব কমন্সের সামনে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন বিএনপি নেতারা। বিএনপির পক্ষ থেকে এসময় জানানো হয়, বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকেবহাল ছিলেন না ব্রিটিশ রাজনীতিকরা। বিষয়টি সম্পর্কে তাদের ধারণা দেয়া হয়েছে। দু’দেশের এই দুই দলীয় প্রধান তাদের নিজেদের দল নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানানো হয় প্রেস ব্রিফিংয়ে।

সাংবাদিকদের কাছে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে সাঈদা ওয়ারসি হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের জন্ম। আর ৭১ সালের ২৮ মার্চ আমার জন্ম। সুতরাং বাংলাদেশের জন্মের ঘটনা ও  আমার জন্ম খুবই কাছাকাছি সময়ের। ’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটায় হাউজ অব লর্ডসে অলপার্টি পার্লামেন্টারি গ্র“পের সাথে এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার।

বাংলাদেশ সময় ১৭২০ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts