Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

Banglanews24.com:::: ‘লন্ডনে মঞ্জুরুল আহসান খান’ - কাজী নুরুজ্জামান যুদ্ধাপরাধীদের ঘৃণা করতে শিখিয়েছিলেন

লন্ডন: বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খান বলেছেন, ৭৫ এ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইতিহাসের গতিধারা উল্টে দেওয়ার যে চেষ্টা শুরু হয়েছিল, তার উদ্দেশ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জাতীয় চেতনা থেকে দুরে রাখা। আর সাম্প্রদায়িক মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে দেশকে প্রগতিবিরোধী শক্তির কব্জায় বন্দি রাখা। কিন্তু সেক্টর কমান্ডার কাজী নুরুজ্জামানের মতো মুক্তিযোদ্ধাদের কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে সম্প্রতি প্রয়াত মুক্তিযুদ্ধের ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব:) কাজী নুরুজ্জামানের মৃত্যুতে লন্ডনে আয়োজিত শোকসভায় তিনি এ কথা বলেন।

পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরী সেন্টারে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এ শোকসভার আয়োজন করে।

বাংলাদেশের প্রবীণ এ রাজনীতিক বলেন, নুরুজ্জামানরা ইতিহাস বিস্মৃত জাতীকে বার বার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন আমাদের গৌরময় সংগ্রামী ইতিহাসের কথা, অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার কথা। যুদ্ধাপরাধীদের ঘৃণা করতে শিখিয়েছিলেন শহীধ জননী জাহানার ঈমামসহ সেক্টর কমান্ডার কাজী নুরুজ্জামানের মত ব্যক্তিরা।

নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য সভাপতি ডাঃ বি বি চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোক সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ও বঙ্গবন্ধুর এক সময়ের প্রেস সেক্রেটারি আমিনুল হক বাদশা, সাংবাদিক আবু মুসা হাসান, কাজী নুরুজ্জামানের ভাইয়ের মেয়ে মাহের আনজুম, জাতীয় সমন্বয় কমিটির নেতা সাবেক কাউন্সিলার শাহাব উদ্দিন বেলাল, সিপিবি নেতা সৈয়দ এনাম, ওয়ার্কার্স পার্টির ওয়ালিউর রহমান, ন্যাপ নেতা আব্দুল আজিজ, জাসদ নেতা হারুনুর রশীদ, সৈয়দ আবুল মনসুর লীলু, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি লিডার রাজন উদ্দিন জালাল, শিক্ষাবিদ সৈয়দ রকিব, যুবনেতা মিয়া আখতার হোসেন সানু, প্রজন্ম ৭১ এর আহমেদ নুরুল টিপু ও সত্যেন সেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস এর সভাপতি হারুনুর রশীদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা।

মঞ্জুরুল আহসান খান আরও বলেন, আমাদের উপমহাদেশে বাংলাদেশের জন্ম অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। পাকিস্তান ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের গোষ্ঠিগত স্বার্থে বাঙালিদের শাসন- শোষনের লোভ যেমন তারা ছাড়তে চায়নি, ঠিক তেমনি ভারতের একটি বড় অংশও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ট বাংলাদেশ নামের আরেকটি রাষ্ট্র চায়নি। ভারতের উচ্চ পর্যায়ের অনেক সরকারি কর্মকর্তাসহ তৎকালীন সেনা প্রধানও ছিলেন এই গ্রুপের সমর্থক। কিন্তু তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েও অবস্থান নিয়েছিলন বাংলাদেশের পক্ষে।
তিনি আরও বলেন, ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও ছাত্রইউনিয়নের যৌথ গেরিলা বাহিনীকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে চায়নি একটি শক্তি। কিন্তু প্রয়াত কাজী নুরুজ্জামান ও কর্নেল তাহেরের মতো সেক্টর কমান্ডারদের কারণে তারা অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়।

সিপিবি সভাপতি বলেন, অনেকে বলেন রাজনীতিতে শেষ কথা নেই। কিন্তু প্রয়াত শহীদ জননী জাহানার ইমামের মত আমরাও  বলতে চাই মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও অসাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে শেষ কথা আছে। এই শেষ কথা হলো, এসব বিষয়ে আপোস করা যাবে না।

প্রয়াত কাজী নুরুজ্জামানের ভাইয়ের মেয়ে মেহের আফরোজ বলেন, কাজী নুরুজ্জামানকে আমরা ফুল চাচা বলে ডাকতাম। মুক্তিযুদ্ধের অনেক আগেই জেনারেল টিক্কাখানের সাথে তাঁর মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় তিনি সেনাবাহিনী ত্যাগ করেছিলেন। স্বাধীনতা উত্তর সময়ে বিভিন্ন দল তাকে রাজনীতিতে যোগদানের আমন্ত্রণ জানালেও তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি।

সাংবাদিক আমিনুল হক বাদশাহ বলেন, যে বাংলাদেশ কাজী নুরুজ্জামান দেখতে চেয়েছিলেন তা তিনি দেখে যেতে পারেননি। জাতী হিসেবে এটি আমাদের ব্যর্থতা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে পারলে কিছুটা হলেও তাঁর আত্মা শান্তি পাবে।

শোকসভায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাং®কৃতিক ও কমিউনিটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ সময়: ২২২৫ঘণ্টা, মে ১৩, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts