Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

সমকাল: ভোটের আগেই হতাশার সুর লেবার পার্টিতে

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন

সময় এগিয়ে আসছে দ্রুত। আগামীকাল ব্রিটেনে পার্লামেন্ট নির্বাচন। ভোটের এক দিন আগেই যেন হতাশার সুর টানা ১৩ বছরের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির মন্ত্রী, এমনকি প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মুখে। জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা কনজারভেটিভ পার্টিকে ঠেকাতে লেবার সমর্থকদের প্রতি কিছু আসনে কৌশলগত ভোটদানের আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রীরা। এসব আসনে প্রয়োজনে লিবারেল ডেমোক্রেট প্রার্থীদের ভোট দিতে বলেছেন তারা। আর দল হারলে তার 'পুরো
দায়দায়িত্ব' নিজ ঘাড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে নেতাকর্মীদের আস্থায় রাখার শেষ চেষ্টা চালিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন। প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহচর শিক্ষামন্ত্রী এড বলস নিউ স্টেটসম্যান পত্রিকাকে বলেন, 'আমি সবসময় চাই লেবার পার্টির জয়। কিন্তু যেখানে লিবারেল ডেমোক্রেট আর কনজারভেটিভ বা টোরি দলের লড়াই, সেখানে আমি চাইব টোরিদের হারাতে'। এ অবস্থায় ভোটের আগে নতুন ধাক্কা খেল লেবার পার্টি। প্রভাবশালী বিজনেস পত্রিকা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস সমর্থন ঘোষণা করেছে ডেভিড ক্যামেরনের কনজারভেটিভ পার্টির প্রতি। অন্যদিকে সান পত্রিকায় দৈনিক জনমত জরিপের অংশ হিসেবে গতকাল প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, কনজারভেটিভ পার্টি পাবে ৩৫ শতাংশ ভোট। আর লেবার ও লিবারেল ডেমোক্রেট প্রত্যেকে পাবে ২৮ শতাংশ করে ভোট। নির্বাচনকে সামনে রেখে লেবার পার্টি নেতা প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন এবং লিব-ডেম নেতা নিক ক্লিগ গতকাল ছিলেন বিরামহীন প্রচারণায়।
বাংলাদেশসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মতো ব্রিটিশদের মধ্যে নির্বাচনী জ্বর খুব একটা নেই। তবে মূলধারাসহ সব মিডিয়া এ জ্বরে প্রকটভাবে আক্রান্ত। নির্বাচনে কোন পার্টি ক্ষমতায় আসছে, ডাউনিং স্ট্রিটে কে ঢুকছেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, নাকি একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে যাচ্ছে ব্রিটিশ রাজনীতি_ এ বিষয়গুলো নিয়ে এখন ব্রিটিশ মিডিয়া ব্যস্ত। ৬৫০ আসনের পার্লামেন্টে ৩২৬ আসন পেয়ে কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন করতে পারবে কি-না, এটি এখন বিরাট প্রশ্ন। টানা তিন টার্ম ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এখন সম্পদ, নাকি বোঝা_ এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশেল্গষণ। ইমিগ্র্যান্ট ইস্যুতে প্রধান তিনটি দল ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি, বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বিভিন্নভাবে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করছে। ইমিগ্র্যান্টবান্ধব লেবার পার্টিকে এ ইস্যুতে অন্য দলগুলোর প্রবল সমালোচনা সইতে হচ্ছে। এত খবরের মধ্যে মুসলমান কমিউনিটির মধ্যে নতুন শঙ্কার জন্ম দিচ্ছে উগ্র মুসলিম মৌলবাদীদের 'নট টু ভোট ক্যাম্পেইন'। ভোট দেওয়া হারাম বা অমুসলিম প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যাবে না, এসব প্রচারণা নিয়ে মৌলবাদীদের একটি অংশ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আর এ সুযোগে উগ্র বর্ণবাদী দল বিএনপি মুসলমান ও ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা অব্যাহত রেখেছে। বৃহত্তর লন্ডনের ৩২টি আসনসহ প্রায় প্রতিটি আসনেই এ উগ্র বর্ণবাদী দলটি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্রীরসহ একটি মৌলবাদী গ্রুপ মুসলমান ভোটারের কাছে ভোট হারাম, একান্ত বাধ্য হয়ে ভোট দিতে হলে মুসলিম প্রার্থীকে দিতে হবে_ এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। এতে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ ধর্মভীরু মুসলমানরা। বিএনপি এমনিতেই মুসলমান ও ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তার ওপর উগ্র মৌলবাদীদের এসব তৎপরতা তাদের বর্ণবাদী প্রপাগান্ডার পালে আরও বেশি করে বাতাস দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ বিপদ টের পেয়ে মসজিদে মসজিদে জুমার খুতবায় ইমামরা ভোটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মুসলিল্গদের উপদেশ দিচ্ছেন। ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছে, ক্ষমতায় গেলে তারা আর কোনো মসজিদের পারমিশন দেবে না। বিতর্কিত মুসলমান এবং আদালতের রায়ে দণ্ডিত সব ইমিগ্র্যান্টকে দেশ থেকে বের করে দেবে। সর্বোপরি ব্রিটেনকে নন-ইমিগ্র্যান্ট দেশ হিসেবে ঘোষণা দেবে। এদিকে বাঙালি অধ্যুষিত বেথনালগ্রিন ও বো-তে ভোটবিরোধী ক্যাম্পেইনাররা লেবার প্রার্থী রুশনারার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক অপপ্রচার চালাচ্ছে। রুশনারা মুসলমানদের রোল মডেল নন দাবি করে উগ্র মৌলবাদীরা তাকে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানাচ্ছে। তারা প্রচার চালাচ্ছে বাংলাদেশের জামায়াত সমর্থক একটি সংগঠনের প্রার্থীর পক্ষে।
শঙ্কিত ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি
এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রিটেনের ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটি বেশ শঙ্কায় পড়েছে। তাদের শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে ইমিগ্র্যান্টবান্ধব লেবার পার্টির নির্বাচনী জরিপের ফলাফল। লিবারেল ডেমোক্রেটরা সাম্প্রতিক সময়ে ইমিগ্র্যান্টদের প্রতি কিছুটা সহানুভূতিশীল হলেও এ দলের নেতা নিক ক্লিগ বলেছেন, গর্ডন ব্রাউনের সঙ্গে তিনি কোয়ালিশন করবেন না। তাহলে নির্বাচনী ফলাফল ঝুলন্ত পার্লামেন্টের দিকে গেলে কি প্রধানমন্ত্রী হবেন কনজারভেটিভ নেতা ডেভিড ক্যামেরন? এ প্রশ্ন এখন দেখা দিয়েছে ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটিতে।
নির্বাচনে যেসব পার্টি লড়ছে
পার্লামেন্ট নির্বাচনে তিন প্রধান দল ছাড়া আরও কয়েকটি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ৬৫০ আসনের পার্লামেন্টে ৫৩৩টি ইংল্যান্ডে, ৫৯টি স্কটল্যান্ডে এবং ১৮টি ওয়েলসে। প্রতিটি আসনে একজন করে এমপি নির্বাচিত হবেন। আসন অনুসারে ভোটারের গড় সংখ্যা ৬৮ হাজার ১৭৫ জন। ২০০৫ সালের নির্বাচনে মোট ৯টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এবারও ৯টি দলসহ কিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। লেবার পার্টি, কনজারভেটিভ পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি ছাড়া আর যেসব পার্টি এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে সেগুলো হলো_ ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি, প্লোইড কিমরু পার্টি, ইউনাইটেড কিংডম ইন্ডিপেনডেন্স পার্টি, গ্রিন পার্টি ও ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। ২০০৫ সালে লেবার পার্টি পেয়েছিল ৩৫৬ আসন, কনজারভেটিভ ১৯৮, লিবারেল ডেমোক্রেটিক ৬২, এসএনপি ৬, ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি ৯, সিনপেইন পার্টি ৫, আলস্টার ইউনিয়নিস্ট পার্টি ১, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক অ্যান্ড লেবার পার্টি ৩ এবং ইন্ডিপেনডেন্স পার্টি ১টি আসন। ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি ভোট পেয়েছিল মোট ৩৫.৩ শতাংশ এবং কনজারভেটিভ পার্টি ৩২.৩ শতাংশ।

৫ মে' ২০১০
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts