Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

ব্রিটিশ মন্ত্রিত্ব বাঙালির হাতের নাগালে: শ্যাডো মন্ত্রিসভায় রোশনারা

লন্ডন: এক স্বপ্ন পূরণের আনন্দ শেষ হতে না হতেই নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আবার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন ব্রিটেনের অভিবাসী বাঙালিরা। এই স্বপ্ন আবারও ব্রিটিশ বাঙালিকন্যা রোশনারাকে নিয়ে।

প্রথম বাঙালি এমপি হওয়ার পর এবার ব্রিটিশ মন্ত্রিত্বও অনেকটাই বাঙালির হাতের নাগালে নিয়ে এসেছেন এই বাঙালিকন্যা।রোববার লেবার পার্টি নেতা এড মিলিব্যান্ড তাঁর শ্যাডো কেবিনেটে ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনেল ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি) বিভাগের জুনিয়র মন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এমপি রোশনারা আলীর নাম ঘোষণা করেন। এরই সুবাদে  ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতিতে বাঙালির এই নতুন সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে স্বপ্ন দেখা ।

লেবার পার্টি নেতা এড মিলিব্যান্ড রোববার তার ছায়ামন্ত্রিসভার জুনিয়র মন্ত্রীদের তালিকা প্রকাশকালে বলেন, `আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করতে চাই, নতুন প্রজন্মের কয়েকজন এমপিকে আমাদের টিমে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এদের প্রতিভা সিনিয়র লেবার এমপিদের অভিজ্ঞতার সংস্পর্শে এসে টোরি-লিবডেম জোট সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে লেবার পার্টিকে সহায়তা করবে।

এর আগে এড মিলিব্যান্ড তার শ্যাডো কেবিনেট সদস্যদের নাম ঘোষণা করে টোরি-লিবডেম জোট সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আদায়ে এই টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্রিটেনের পার্লামেন্টারি রাজনীতি চর্চায় শ্যাডো কেবিনেট কনসেপ্টটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রধান বিরোধী দল এই শ্যাডো কেবিনেট গঠন করে। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের পলিসি পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত শ্যাডো মন্ত্রীরা পার্লামেন্টে এর মূল্যায়ন করেন ও একই বিষয়ে বিরোধী দলের পলিসি উত্থাপন করেন। প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত বিরোধী দলের শ্যাডো মন্ত্রী পার্লামেন্টারি বিতর্কে অংশ নেন, এবং জাতিকে যার যার দলের পলিসি সম্পর্কে অবহিত করেন। সাধারণত দলের সিনিয়র এমপি বা সাবেক মন্ত্রীদের মধ্য থেকেই শ্যাডো কেবিনেট গঠন করা হয়। কেবিনেটে পদ লাভের জন্যে সিনিয়র এমপিরা প্রতিদ্বন্দিতা করেন।
দলের এমপিদের ভোটে সাধারণত ২০ সদস্যের মধ্যে শ্যাডো কেবিনেট গঠন করা হয়। কেবিনেট নির্বাচনের পর দলের নেতা ও শ্যাডো প্রধানমন্ত্র্রী এমপিদের ভোটে নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে মন্ত্রণালয় ভাগ করে দেন। শ্যাডো প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়োগ দেন জুনিয়র মন্ত্রীদের। শ্যাডো কেবিনেট ব্রিটিশ পার্লামেন্টারী রাজনীতিতে সরকারের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও এই দায়িত্ব পালনের জন্যে একমাত্র শ্যাডো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত বিরোধী দলীয় নেতা, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও ডেপুটি চিফ হুইপ ছাড়া আর কেউ পারিশ্রমিক নেন না। শ্যাডো কেবিনেটকে গোপনীয় বা অদৃশ্য মন্ত্রীসভা হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

এদিকে, জুনিয়র মন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় লেবার পার্টির আগামী সরকারে রোশনারা আলী মন্ত্রী হচ্ছেন এটি অনেকটা নিশ্চিত।

সাধারণত শ্যাডো কেবিনেটের সদস্য ও জুনিয়র মন্ত্রীরাই দল সরকারে গেলে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে থাকেন। এটি অনেকটা প্রচলিত প্রথা হিসেবেই চলে আসছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি রাজনীতিতে। সেদিক থেকে লেবার পার্টির ভবিষ্যত সরকারে বাঙালি কন্যা রোশনারা আলীর উজ্জল অবস্থান এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

রোশনারার প্রতিভা ও দতার বিষয়টি এরইমধ্যে লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়েও আলোচিত হচ্ছে। পার্টির গত কনফারেন্সের সময় প্রবীণ লেবার নেতা কিথ ভাজ মন্তব্য করেন, পার্লামেন্টে রোশনারার প্রথম বক্তব্য সবাইকে সম্মোহিত করেছে।

রোশনারার পূর্বসুরী বেথনালগ্রিন ও বো’র সাবেক লেবার দলীয় এমপি উনা কিং তার দায়িত্ব পালনকালীন ব্যক্তিগত সেক্রেটারি রোশনারা সম্পর্কে  মন্তব্য করলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনের সময় রোশনারার প্রতিভাই আমি কাজে লাগিয়েছি বেশি। সত্যিই তাঁর মেধা অসাধারণ।’

রাজনৈতিক অবস্থাদৃষ্টে মনে করা হচ্ছে, ব্রিটিশ রাজনীতির বর্তমান জটিল সময়ে সরকারে যেতে হলে পূর্ণ মেয়াদ যে লেবার পার্টিকে অপক্ষা করতে হবে তা নাও হতে পারে।

বেনিফিট, চাকুরী, স্বাস্থ্য, হাউজিংসহ সব সেক্টরে টোরি-লিবডেম জোট সরকারের কাট কাট সিদ্ধান্তে ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে যে তীব্র অসন্তোষ শুরু হয়েছে, সরকারের পে তা মোকাবেলা করা কতটুকু সম্ভব এটিই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেনের রাজনীতির গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করে সমালোচকরা বলছেন জোট সরকারের জনপ্রিয়তা দ্রুত নেমে যাচ্ছে শুন্যের কোঠায়। এমনকি কোন কোন সমালোচক  সরকারের পতন বা মধ্যবর্তী নির্বাচন আসন্ন বলেও মন্তব্য করতে পেছপা হচ্ছেন না।

বাংলাদেশ সময় ১৭০৩ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১০
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts