Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

রোশনারার প্রেরণা আওলাকি, আওলাকির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠতা!

লন্ডন : রোশনারা যার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্টিফেন টিমস্‌কে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, তিনি হচ্ছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী চরমপন্থি ইয়েমেনি নেতা আনোয়ার আল আওলাকি। আওলাকির বক্তব্যের সব ভিডিও ক্লিপ ব্রিটিশ সরকারের অনুরোধে ও মার্কিন সরকারের নির্দেশে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইউটিউব।

তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে রোশনারা বলেছিলেন, আনোয়ার আওলাকির সর্বমোট ১০০ ঘন্টার বক্তৃতা পর্যালোচনা করার পরই স্টিফেন টিমস্‌কে হত্যার পরিকল্পনা নেন তিনি। রোশনারাকাণ্ড এবং ইয়েমেন থেকে কার্গো বিমানে বিস্ফোরক প্রেরণের ঘটনার পর আনোয়ার আল আওলাকি এখন ব্রিটিশদের চোখে সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে আবির্ভূত।

চলতি বছরের মার্চে চ্যানেল ফোর-এর ডেসপ্যাচেস অনুষ্ঠানে ‘ব্রিটেন ইসলামিক রিপাবলিক’ নামের একটি ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়। এতে অভিযোগ আনা হয়, বাংলাদেশের জামাতে ইসলামীর ইউরোপীয় সংস্করণ ইসলামিক ফোরাম ইউরোপ’র (আইএফই) সাথে আওলাকির সম্পৃক্ততা রয়েছে। ওই ডকুমেন্টারিতে আইএফই পরিচালিত ইস্ট লন্ডন মসজিদে আওলাকি লেকচার দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। শুধু তাই নয়, ব্রিটেনের বিভিন্ন জায়গায় আওলাকি এক সময় লেকচার দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন বলেও ব্রিটেনের মূলধারার কোনো কোনো মিডিয়ায় খবর এসেছে।

যাবজ্জীবন কারাদন্ডের রায়ের পর ব্রিটেনে বাঙালি-বংশোদ্ভূ’ত তরুণ প্রজন্মের কাছে রোশনারাকে ‘হিরো’ হিসেবে উপস্থাপনের অপচেষ্টার নেপথ্যেও রয়েছে এই সংগঠন। বাংলানিউজের কাছে এমনই অভিযোগ করলেন অনেকে। তারা বলছেন, এই শক্তিই স্টিফেন টিমসকে ছুরিকাঘাতের পর রোশনারাকে পাগল হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চালায়।

আওলাকির প্রেরণাই বাঙালি তরুণী রোশনারা চৌধুরীর আজকের পরিণতির জন্যে দায়ী। এ কারণে  ব্রিটেনে যারা আওলাকিকে প্রমোট করেছেন, পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন তাদের প্রতি এখন সাধারণ প্রবাসীদের অনেকেই ক্ষুব্ধ। আওলাকিদের অনুপ্রেরণায় বাঙালি কমিউনিটিতে আর কোনো রোশনারা ভুল পথে পা বাড়াবে কিনা এই আশঙ্কা এখন ঘরে ঘরে। যারা আওলাকিদের প্রমোট করেন তারাইবা এই ঘটনার পর তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রাখবে কিনা সে নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা।

রেশানারার সর্বশেষ পরিণতি সম্পর্কে অনেক চেষ্টা করেও তাঁর পিতামাতার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে একটি সূত্র বাংলানিউজকে জানায়, ছুরিকাঘাতের ঘটনার আগ মূহুর্ত পর্যন্ত রোশনারার অভিভাবকরা জানতেনই না যে, তাদের তুখোর মেধাবী সন্তানটি সর্বনাশা চরমপন্থার দিকে পা বাড়িয়েছে।

ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই তাই তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। প্রথমে জানা গিয়েছিল রোশনারার দেশের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথে।  পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আসলে তাঁর বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর গ্রামে। রোশনারার অভিভাবকরা ব্যক্তিগত জীবনে ধর্মান্ধ নন বলেই জানা গেছে। অথচ তাদেরই সন্তান আজ রাতারাতি হয়ে উঠেছে চরমপন্থিদের ‘আইডল’। স্টিফেন টিমস্কে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর রোশনারা তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে যে চাঞ্চল্যকর জবাবন্দি দিয়েছেন, তাঁর পুরোটই এখন বাংলানিউজের হাতে।

বিস্তারিত জবানবন্দিটি পড়ুন তৃতীয় ও চতুর্থ পর্বে
৯ নভেম্বর' ২০১০, ১.১২:৫৫ বাংলাদেশ সময়

Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts