Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

বাংলানিউজ২৪.কম:::::::: রিমান্ডে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে সাকার চিঠি: ব্রিটেনের হস্তক্ষেপ চেয়ে উচ্চ আদালতে যাচ্ছেন ছেলে ফাইয়াজ

লন্ডন: যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী এমপি এবার নিজেই চিঠি লিখলেন ব্রিটিশ সরকারের উদ্দেশ্যে। চিঠিতে তিনি রিমান্ডে তার উপর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়েনের (র‌্যাব) ‘অমানবিক নির্যাতনের’ বর্ণনা দিয়েছেন।

শনিবার ব্রিটেনের শীর্ষ দৈনিক গার্ডিয়ানের এক রিপোর্টে রিমান্ডে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ব্রিটিশ সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা সাকার এই চিঠির কথা প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে সাকা চৌধুরী তার উপর র‌্যাবের নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘বার বার যখন আমার ওপর উপর নির্যাতন নেমে আসতো, তখন প্রায় সময়ই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম। নির্যাতনের সময় তারা আমার পা, হাঁটু থেকে শুরু করে যৌনাঙ্গে পর্যন্ত আঘাত করতো।’

চিঠিতে সাকা বলেন, ‘আমাকে যখন ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো তখন আমি প্রায়ই জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম। এসময় একজন ডাক্তার আমার ব্লাড প্রেশার পরীা করে দেখতেন আমি আরও নির্যাতন সহ্য করার মতা রাখি কি না।’

চিঠিতে সাকা বলেন, ‘নির্যাতনে জ্ঞান হারালে ঠাণ্ডা পানি ছিটিয়ে দিয়ে আবারও চেতনা ফিরিয়ে আসা হত। আবারো শুরু হতো নির্যাতন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরীর নিযুক্ত আইনজীবী ফিল শিনারের মাধ্যমে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়ান হেগ এর কাছে পাঠানো এই চিঠিতে সাকা বলেন, ‘একনাগাড়ে ৬দিন আমার উপর নির্যাতন চালানো হয় রিমান্ডে। নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে আমাকে হাসপাতালে নেওয়া  হলেও,  পরে আবার রিমান্ডে ফিরিয়ে এনে নির্যাতন করা হয়।’

তিন পৃষ্ঠারএই চিঠির বরাত দিয়ে র‌্যাব হেফাজতে নির্যাতনের খুঁটি-নাটি তুলে ধরা হয়েছে গার্ডিয়ানের রিপোর্টে।

এদিকে সাকার ছেলে ফাইয়াজ কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ফিল শিনার বাংলাদেশে সাকার উপর র‌্যাবের নির্যাতন বন্ধে ব্রিটিশ সরকারকে হস্তেেপ বাধ্য করতে শিগগিরই ব্রিটেনের উচ্চ আদালতের স্মরণাপন্ন হচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে গার্ডিয়ানের রিপোর্টে।

রিপোর্টে বলা হয়, ফাইয়াজের আইনজীবী বাংলাদেশের এলিট ফোর্স হিসেবে খ্যাত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তার বিষয়টিও চ্যালেঞ্জ করবেন আদালতে।

ব্রিটিশ ফরেন অফিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, সাকাকে গ্রেপ্তারের পরপরই তার উপর নির্যাতনের সব অভিযোগ গুরুত্বের সাথে নিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে তোলা হয়েছে।

ফরেন অফিসের মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘চিঠিতে বর্ণিত নির্যাতনের বিবরণ যদি সত্যি হয় তাহলে অবশ্যই তা গুরুতর অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য বলে আমরা মনে করি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সাকা চৌধুরীর চিকিৎসা ও সঠিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও আমরা বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মাধ্যমে নিয়মিত তা পর্যবেণ করছি।’

বৃহস্পতিবার গার্ডিয়ানকে দেওয়া ব্রিটিশ ফরেন অফিসের মন্তব্যে বলা হয়, ‘ব্রিটেনের প থেকে হিউম্যান রাইটস স্ট্যান্ডার্ড উন্নত করার বিষয়ে র‌্যাবকে প্রশিণ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে আমরা এ বিষয়েও সচেতন যে, প্রতিষ্ঠানগত বা ব্যাপক আকারের পরিবর্তন রাতারাতি সম্ভব নয়।

তবে ব্রিটেনের প্রস্তাবকৃত মানবাধিকার বিষয়ক প্রশিণ বিষয়ে র‌্যাব এর প্রশিণ বিভাগের প্রধান মিজবাহ উদ্দিন গার্ডিয়ানকে জানান, এই পদে যোগদানের পর এই পর্যন্ত এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

এদিকে ব্রিটিশ সরকারকে উদ্দেশ্য করে লেখা সাকার চিঠির বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করলেও গার্ডিয়ান এই চিঠি কিভাবে কার মাধ্যমে সাকাপুত্র ফাইয়াজের আইনজীবীর কাছে এসে পৌঁছল সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি। ঢাকা থেকে ফারিহা করিম প্রেরিত এই রিপোর্টে চিঠির বরাত দিয়ে সাকার উপর ‘নির্যাতন’ এর বিস্তারিত খুঁটি-নাটি প্রকাশ করা হলেও কারাগার থেকে কিভাবে সাকা ব্রিটিশ সরকারকে চিঠি লিখলেন তা উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ বাংলানিউজকে বলেন, ‘ফারিহা করিম বিভিন্ন সময় র‌্যাবের নির্যাতন, মানবাধিকার লংঘন ও যুদ্ধাপরাধী সাকা’র উপর নির্যাতনের বিষয়ে রিপোর্ট করলেও ’৭১ এ সাকাদের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেন না।’

তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে ব্রিটেনভিত্তিক যে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে সাকাপুত্র ও অন্যদের নেতৃত্বে, ফারিহা করিমের ধারাবাহিক রিপোর্ট সেই ষড়যন্ত্রকেই শক্তি যোগাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সাকা কিভাবে কারাগারে থেকেও ব্রিটিশ সরকারকে চিঠি লিখলেন সেই তথ্যটুকু উল্লেখ করা উচিৎ ছিল ফারিহা করিমের গার্ডিয়ানের রিপোর্টে।

বাংলাদেশ সময়: ২১৫১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts