Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

সমকাল: ঢাকার ফ্লাইটে বোর্ডিং পাস দেয়নি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আ'লীগ নেত্রীর: হাসিনার ফেরা হলো না

সৈয়দ আনাস পাশা, লন্ডন
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ গতকাল শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে আসার বোডর্িং পাস দেয়নি। যুক্তরাজ্যের বেসামরিক এই বিমান সংস্থাটির কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনাকে তাদের কাছে বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো চিঠি দেখিয়ে এই অপারগতা প্রকাশ করেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গতকাল রোববার লন্ডনের স্থানীয় সময় বেলা ২টার দিকে হিথ্রো বিমানবন্দরে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তিনি ওই কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বোডিং পাস নিয়ে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ব্রিটিশ লেবার দলীয় এমপি মিজ এমিলি থর্নবেরি ও লন্ডনের মেয়রের প্রতিনিধি মুরাদ কোরেশী। তিনি শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বোর্ডিং পাস না দিয়ে জানান, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ সরকার সে দেশে নামতে দেবে না বলে তাদের জানিয়ে দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সরকার একদিকে তাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছে না, অপরদিকে তাকে পলাতক দেখিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বলেন, দেশে ফিরে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে চান। তিনি আরো বলেন, প্রধান উপদেষ্ঠার হাতে একই সঙ্গে স্বরাষ্ঠ্র মন্ত্রণালয় ও আদালত রয়েছে। অথচ প্রধান উপদেষ্ঠা পরসঙ্রবিরোধী কাজ করছেন। এটা কী ধরনের আচরণ, তিনি প্রশ্ন করেন।
শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে ব্রিটিশ নিরাপত্তাকর্মীরা বিমানবন্দরের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। এ সময় বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি সাংবাদিকরা উপস্থিত হলেও কাউকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের দুই শতাধিক নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তারা শেখ হাসিনার পক্ষে স্টে্নাগান দেন। এ সময় শেখ রেহানার ছেলে ববি, যুক্তরাজ্যের আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ সামসদু্দিন খান, ব্যারিস্টার সামছদু্দিন মানিক, সৈয়দ ফারুক, জামাল আহমেদ খান, অধ্যাপক আবুল হাশেম, সুলতান শরীফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, শেখ হাসিনা সপ্তাহখানেক ব্রিটেনে তার ছোট বোন শেখ রেহানার বাড়িতে থাকবেন। আবারো দেশে ফেরার জন্য তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কার্যালয়ে যাবেন। দেশে ফিরতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন।


আওয়ামী লীগ সভানেত্রী গত ১৫ মার্চ এক মাসের সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান। ওই সময় দলীয় নেতারা তার দেশে ফিরে আসা নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ছিলেন। কয়েকজন সিনিয়র নেতা এই সফরে না যাওয়ার জন্য শেখ হাসিনাকে পরামর্শও দিয়েছিলেন। কিন্তু অসুস্থ পুত্রবধহৃ ক্রিসি্টন ওভারমায়ারকে দেখতে যাওয়াকে তিনি গুরুত্ব দেন। তখন থেকেই আওয়ামী লীগ নেতারা দলীয় প্রধানের দেশে ফিরে আসা নিয়ে আশা-নিরাশার দোলাচলে ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে গত ১০ এপ্রিল দেশে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজির মামলা হলে তিনি সরাসরি ওই মামলা মোকাবেলা করতে ১৪ এপ্রিল দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু যোগাযোগ উপদেষ্ঠা মেজর জেনারেল (অব.) এমএ মতিন বীরপ্রতীক ১১ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সফর সংক্ষিপ্ত না করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশে ফেরার পরামর্শ দেন। গত বছরের ২৮ অক্টোবর রাজপথে রাজনৈতিক ঘটনায় সংঘটিত হত্যাকাাউহনংঢ়; জড়িত করে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১১ এপ্রিল পৃথক মামলায় চার্জ গঠন হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসার কথা থাকলেও পরে তিনি তা ২৩ এপ্রিল নির্ধারণ করেন।
১৭ এপ্রিল সরকার একটি প্রেসনোট প্রকাশ করলে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দেশে ফিরে আসা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে 'উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং জনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা ের মাধ্যমে জনমনে বিবেষ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির প্রয়াস চালাতে পারেন' বলে আশঙ্কা করা হয়েছে ওই প্রেসনোটে।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ১৯ এপ্রিল দেশে ফিরে আসার উদ্দেশে আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসি থেকে লন্ডনে আসেন। ওই সময়ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনাকে ঢাকার বোডর্িং পাস দেননি।
এদিকে, দলীয় প্রধান দেশে আসতে পারছেন না জেনেও নেতা-কর্মীরা গতকাল বিকেল পর্যন্ত 'একটা কিছু হতে পারে'_ এই আশায় বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু রাতে শেখ হাসিনার আসতে না পারার খবর পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। জরুরি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে নেতারা সতর্কতা অবলম্বন করে গতকাল কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা মামলা কিংবা গ্রেফতার আতগ্ধেক আছেন।
নেতারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা শেখ হাসিনার নিদরাউশের অপেক্ষায় আছেন। এখন তারা কর্মীদের এড়িয়ে চলছেন। হতাশায় নিমজ্জিত কর্মীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা টেলিফোনেও নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। নেতারা টেলিফোন ধরছেন না। কর্মীরা মনে করেন, কমবেশি সবার বিরুদ্ধেই কিছু না কিছু অভিযোগ থাকায় নেতাদের কেউ কেউ নিজেদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে আছেন।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বিষয়টি নিয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন কি না_ এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেখা যাক। 
 
২৩ এপ্রিল' ২০০৭

0 comments:

Post a comment

Popular Posts