Syed Anas Pasha

Syed Anas Pasha

ইউকে বিডিনিউজ: ব্রিটিশ মিডিয়ায় এবার ফতোয়া বেত্রাঘাতে নিহত হেনার মৃত্যূ সংবাদ

সৈয়দ আনাস পাশা : সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নেতিবাচক খবরগুলো  নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ার ফলাও প্রচার ব্রিটেনে বসবাসরত বাঙালি কমিউনিটিকে অনেকটা ব্রিবত পরিস্থিতির সম্মুখিন করছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির অবণতি ও র‌্যাব কর্মকান্ড নিয়ে সমালোচনার পর বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা, ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক ‘গার্ডিয়ান’ এ এবার উঠে এসেছে ফতোয়া বেত্রাঘাতের আঘাতে নিহত শরীয়তপুরের কিশোরী হেনার মৃত্যু সংবাদের কথা।
বৃহস্পতিবার গার্ডিয়ানে ঢাকা থেকে ফারিহা করিম প্রেরিত ‘বাংলাদেশী গার্ল ১৪, ডাইজ আফটার রিসিভিং ১০০ ল্যাশেস’ শীর্ষক  এক রিপোর্ট প্রকাশিত হলে বিব্রত ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে এনিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। কেউ বলছেন বিদেশী মিডিয়ায় বাংলাদেশের নেতিবাচক খবরগুলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সরকারকে  ভাবমূর্তি সংকটের মুখোমুখি করছে, আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন বাংলাদেশের ইতিবাচক খবরগুলো ব্রিটিশ মিডিয়ায় গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন নেতিবাচক ঘটনাগুলোই ফলাও করে প্রচার হচ্ছে।

গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, ১০০ বেত্রাঘাত মেরে ১৪ বছর বয়সী একটি বালিকাকে হত্যা করার অপরাধে বাংলাদেশে চার ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোসাম্মাত হেনা নামের ১৪ বছর বয়সী এক বালিকাকে তাঁর বিবাহিত কাজিনের সাথে অবৈধ ভাবে মিলিত হওয়ার অভিযোগে বাশেঁর কঞ্চি দিয়ে ১০০ বেত্রাঘাত করলে হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। শিল্পী বেগম নামের একজন মহিলা তাঁর স্বামী মাহবুবের সাথে হেনার বিরুদ্ধে অবৈধ মেলামেশার অভিযোগ আনলে গ্রামের একজন বয়োজেষ্ট ব্যক্তির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য পঞ্চায়েত এই বেত্রাঘাতের আদেশ দেয়।  রিপোর্টে বলা হয়, এই ঘটনায় শিল্পী বেগমসহ আরো তিন জনকে হেনা হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ইমাম মহিউদ্দিনও রয়েছেন, যিনি এই বেত্রাঘাতের ফতোয়া দিয়েছেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত আরো ১৪ ব্যক্তিকে পুলিশ খুজছে বলেও গার্ডিয়ানের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

‘এ কেমন বিচার, যে বিচারের নামে বেত্রাঘাত করে আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়’ বিবিসিকে দেয়া নিহত হেনার বাবা ৬০ বছর বয়সী দরবেশ খানের এই মন্তব্য উল্লেখ করে গার্ডিয়ানের রিপোর্টে জানানো হয় নিহত হেনাকে তাঁর গ্রামের বাড়ি শরিয়তপুরের নড়িয়ায় দাফন করা হয়েছে। রিপোর্টে পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, হেনার বিরুদ্ধে আনিত শিল্পী বেগমের অভিযোগ ছিল, তিনি তাদের বাড়ীর পাশে তার স্বামী মাহবুবের সাথে হেনাকে কথা বলতে দেখেছেন। হেনার অভিযোগ শুনেই সালিশ বৈঠক থেকে আদেশ দেয়া হয় হেনা ও মাহবুব কে আলাদা আলাদা ভাবে ১০০ করে বেত্রাঘাত মেরে শাস্তি দিতে হবে। গার্ডিয়ানের রিপোর্টে বলা হয়, ৪জন মহিলাসহ ২০/২৫ জন লোক হেনাকে ঘরে আটকে রেখে বেত্রাঘাত মারতে থাকলে এক পর্যায়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর হাসপাতালেই সে মৃত্যুবরণ করে।

শরিয়া আইনের কথা বলে ফতোয়া দিয়ে এধরনের শাস্তি দানের ঘটনা বাংলাদেশে গত বছর থেকেই বেআইনি হিসেবে ঘেষিত হলেও এটি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে হেনাকে বেত্রাঘাতের ঘটনা  সারা বাংলাদেশ জুড়েই আলোড়ন তুলেছে  বলে রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়। রিপোর্টে বলা হয় বাংলাদেশের উচ্চ আদালত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফতোয়ার নামে এ ধরনের শাস্তি প্রদানের অপরাধমূলক ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, এটি বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিবেচিত হবেন।

রিপোর্টে হেনার মৃত্যুর পর আদালতে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, ইতোমধ্যে মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা ঘটনাস্থল হেনার গ্রাম পরিদর্শন করেছেন। একটি মানবাধিকার সংগঠনের ইনভেস্টিগেশন ডাইরেক্টর নুর খান লিটনের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়, ফতোয়ার নামে শাস্তি দেয়া উচ্চ আদালতের নির্দেশে অবৈধ ঘোষিত হলেও চরমপন্থি ধর্মীয় গ্রুপগুলো তা তোয়াক্কা না করে ফতোয়ার নামে এইসব বর্বরতম ভয়ানক অপরাধের ঘটনা এখনও ঘটাচ্ছে। এইসব ঘটনায় আমাদের সমাজে এখনও অনেক তরুণী নির্যাতিত হচ্ছেন।

৫ ফেব্রুয়ারী' ২০১১
Link to Article

0 comments:

Post a comment

Popular Posts